দাম কমল ব্রয়লার মুরগির, মরিচের দাম ডাবল

১ সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম, যেখানে কাঁচা মরিচের দামও চারগুণ বেড়ে হয়েছে কেজি প্রতি ২০০ টাকা। প্রায় সব ধরনের সবজির দাম থাকছে অপরিবর্তিত।

শুক্রবার (৬ আগস্ট) বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি বিক্রী হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমেছে ১৫ টাকা।

ব্রয়লারের দাম কমলেও পাকিস্তানী কক বা সোনালী মুরগির দাম থাকছে অপরিবর্তিত। আগের মত লেয়ার মুরগি বিক্রী হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায়, সোনালী মুরগি ২০০ থেকে ২৩০ টাকা।

অপরিবর্তিত থাকছে গরু অথবা খাসির দাম। গরুর দাম ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা সেখানে খাসির মাংস বিক্রী হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগির দাম কমার বিষয়ে জানতে চাইলে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মো. জহির বলেন, কোরবানির কারণে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা কমে গেছে। এছাড়াও লকডাউনের কারণে হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোর বিক্রি কমেছে। সবকিছু মিলে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে।

একই কথা জানা গেল মালিবাগের ব্যবসায়ী শহিদুল। তিনি বলেন, বাসাবাড়ির তুলনায় হোটেল-রেস্টুরেন্টের জন্য ব্রয়লার মুরগি বেশি বিক্রি হয়। লকডাউনের কারণে হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলো মুরগি কেনার পরিমাণ অনেক কমিয়ে দিয়েছে। আবার বিয়ে বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানও এখন হচ্ছে না। এসব কারণে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। লকডাউন উঠে গেলে হয়তো ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে গত সপ্তাহে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ টাকায় কাঁচা মরিচ বিক্রী হলেও এই সপ্তাহে তা বিক্রী হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা। কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী রাজু বলেন, বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে। অনেকের মরিচ গাছ পানিতে পচে গেছে। মরিচের দাম বাড়ার এটাই একমাত্র কারণ। বৃষ্টির এ ধারা অব্যাহত থাকলে সামনে মরিচের দাম আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো এখনো সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর ও টমেটো। মানভেদে গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকা। আর পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।

এছাড়াও ঝিঙের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলার কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। আগের মতো ঢেঁড়সের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। বরবটির কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

মালিবাগ হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মো. সলিম বলেন, কোরবানির ঈদের পর সবজির চাহিদা খুব কম ছিল। কয়েক দিন ধরে সবজির চাহিদা বেড়েছে। চাহিদা বাড়লেও সবজির দাম নতুন করে বাড়েনি। সব ধরনের সবজি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা। মৃগেলের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়। তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। পাবদা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা। পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়।

বার্তা বাজার/এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর