প্রায় ১০-১২ জনের সিন্ডিকেট তৈরী করেছিলেন রাজ

প্রযোজক রাজ ও চিত্রনায়িকা পরীমণিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে প্রায় ২ ডজন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম। তাদের ব্যাপারেও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তবেই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরী ও রাজের সকল তথ্য সঠিক নাও হতে পারে বলে জানায় র‍্যাব। পরীমনি ও রাজকে ইতোমধ্যে ৪ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, পরীর বাসায় বিভিন্ন বয়সী মানুষের যাতায়াত ছিল। তাদেরকে মদের সাপ্লাই দিতেন রাজসহ আরও কয়েকজন সহযোগী। পরীর বাসায় আগত অনেকেই পরী-রাজের সিন্ডিকেটের শিকার। প্রভাবশালীদের জন্য নিয়ে আসা হত মডেলসহ সুন্দরী সইব তরুণীদের, তারপর তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা হত তাদের। গ্রেপ্তার রাজ ওম মিশুর মোবাইল ঘেটে ঘেটে এমন অনেক ভিডিও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, মিশু হাসান ও জিসানের সহযোগিতায় ১০-১২ জনের একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেন রাজ। এই সিন্ডিকেটটি রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীতে পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানা অনৈতিক কর্মকা-ের ব্যবস্থা করে থাকে। ওইসব পার্টির জন্য তারা পেত বিপুল পরিমাণ অর্থ। প্রতিটি পার্টিতে ১৫-২০ জন অংশ নিতেন। তারা সাধারণত উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য। এ ছাড়া বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করত চক্রটি। একইভাবে উচ্চবিত্ত প্রবাসীদের জন্যও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টির আয়োজন করতেন তারা।

র‍্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন জানান, রাজ তার ‘রাজ মাল্টিমিডিয়া’ কার্যালয়টি অনৈতিক কাজেই ব্যবহার করতেন। সেখানে থাকা বিকৃত যৌনাচারের সরঞ্জাম দেখে র‌্যাব ধারণা করছে- রাজ মাল্টিমিডিয়ার ওই অফিসে পর্নোগ্রাফি তৈরি করা হতো। এর মাধ্যমেও অবৈধভাবে টাকা আয় করতেন রাজ। তার মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ পর্নোগ্রাফি ভিডিও। এ জন্য তার বিরুদ্ধে মাদক মামলার পাশাপাশি পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে রাজ জানিয়েছেন, অবৈধ আয়ের অর্থ নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যবসা, ড্রেজার আমদানি, বালু ভরাট ও ঠিকাদারি এবং শোবিজ জগতে বিনিয়োগ করতেন। তার সঙ্গে ব্যবসায় বেশ কয়েকজন অবৈধ অর্থের জোগানদাতার তথ্যও পাওয়া গেছে। তাদের ব্যবসায়িক কাঠামোতেও রয়েছে অস্বচ্ছতা। এগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। অবৈধ অর্থ কানাডাতেও পাচার করেছেন রাজ।

বার্তা বাজার/এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর