রগুনায় প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে শাহনেওয়াজ রিফাতকে (রিফাত শরীফ) কুপিয়ে আহত করার ঘটনাটি এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করলেও তাৎক্ষণিক কোনও ভূমিকা রাখেনি পুলিশ। সকাল সাড়ে দশটায় ঘটনাটি ঘটার পর থেকে বিকাল চারটায় তিনি মারা যাওয়া পর্যন্ত মধ্যবর্তী সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
আর এই সুযোগেই হত্যাকারীরা নির্বিঘ্নে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। ওই ঘটনার পর রিফাত ও তার স্ত্রী মিন্নির পরিবার এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ নিজে উদ্যোগী হয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খোঁজার চেষ্টা করলে হয়তো মূল আসামিদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করতে পারতো।
গত বুধবার (২৫ জুন) বরগুনা কলেজের ভেতর থেকে রিফাত শরীফকে বের করে এনে কলেজের সামনের রাস্তায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসী সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা। এসময় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি ঘাতকদের বাধা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তবে এক ঘাতককে আটকে রাখলে অন্য ঘাতক উপর্যুপরি কোপাতে থাকায় তার সে চেষ্টা বিফলে যায়।
সন্ত্রাসীদের মধ্যে রিফাত ফরাজীর হাত থেকে রামদা খসে পড়ে গেলে তারা হামলা থামিয়ে ভেগে যায়। এরপর গুরুতর আহত রিফাত শরীফকে রিকশায় তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান মিন্নি। এ ঘটনার সময় আশেপাশে শত শত লোক জড়ো হলেও নয়ন বন্ডের সহযোগীরা চারপাশে ছড়িয়ে থাকায় কেউ তাদের আটকানোর সাহস করেনি। তবে হামলাকারীদেরই একজন রিশান ফরাজী চাইছিল রিফাত শরীফকে যেন প্রাণে মারা না হয়।
এজন্য নয়ন বন্ডকে সেও আটকানোর চেষ্টা করে। নয়নের রামদা’র দু-একটি আঘাত তার শরীরেও লাগে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় সেও দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে ভেগে যায়। ঘটনার সময় মোবাইল ফোনে দূর থেকে ধারণ করা একাধিক ভিডিও ফুটেজে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।