নদী ভাঙনের মুখে কুমারখালী লালন আবাসনের আশ্রয়ণ কেন্দ্র
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার গড়াই নদী সংলগ্ন যদুবয়রা লালন আবাসন কেন্দ্র -৪ এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় ১৫ দিন ধরে চলছে ভাঙন, তবুও ভাঙনরোধে নেওয়া হয়নি কার্যকারী ব্যবস্থা। এ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে আবাসনের ৫১ টি পরিবার।
শুষ্ক মৌসুমে আবাসন সংলগ্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে এবছর ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে জানায় বাসিন্দারা।
এর আগে ২৪ জুলাই লালন আবাসনের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় থাকা। জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছে আবাসনের বাসিন্দা এবং আবাসনের নানা সমস্যা কথা তুলে ধরা হয় বার্তা বাজারে।
তাই পরিপ্রেক্ষিতে আশ্রয় প্রকল্প ও ভাঙন এলাকা ২৬ জুলাই সকালে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা – কর্মচারী বৃন্দ এবং বিকেলে পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সিরাজুল ইসলাম ও কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডল।
বুধবার (৪ আগষ্ট) সকালে সরেজমিন গেলে লালন আবাসন বাসিন্দারা বলেন, প্রায় ১৫ দিন আগে যদুবয়রা লালন আবাসন কেন্দ্র -৪ এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই ভাঙছে। মাঝেমাঝে স্যারেরা এসে দেখে যাচ্ছে, কিন্তু ভাঙন ঠেকাতে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তাঁরা আরো বলেন, ২০১৩ সালে হাঁসদিয়া লালন আবাসন -১ নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে লালন আবাসন – ৪ ও বিলীন হয়ে যাবে।
জানা গেছে, ২০০৭ সালে নির্মিত হয় আশ্রয়ণ প্রকল্প হাসদিয়া লালন আবাসন -১, পৌর লালন আবাসন -২, নন্দলালপুর লালন আবাসন-৩ যদুবয়রা লালন আবাসন ৪। প্রতিটি আবাসনে ৬০ টি করে মোট ২৪০ টি ঘর নির্মাণ করা হয়। তন্মধ্যে ২০১৩ সালে গড়াই নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যায় হাঁসদিয়া আবাসনের ৫১ টি ঘর। বর্তমানে তিন আবাসনে ১৮৯ টি ঘরে প্রায় শতাধিক পরিবার বসবাস করে।
এবিষয়ে যদুবয়রা লালন আবাসন-০৪ এর সাধারণ সম্পাদক আকুল মন্ডল বলেন, ১৫ দিন হলো ভাঙন লেগেছে। ইউএনও স্যারকে প্রথম থেকেই জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোন ফল হচ্ছেনা। তিনি আরো বলেন, এবছর নদী থেকে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে আবাসনে ভাঙন ধরেছে। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না হলে আবাসান এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডল বলেন, ভাঙন এলাকা ইতিমধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ভাঙনরোধে খুব দ্রুতই সেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হবে। তিনি আরো বলেন, ভাঙন এলাকার নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
এবিষয়ে জানতে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আছরাফ উদ্দিনকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু ফোনের রিং বাজলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মোশারফ হোসেন/বার্তা বাজার/এসবি