মুন্সীগঞ্জের বেতকা বালুচর রাস্তার বেহাল দশা। যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায় সামান্য বৃষ্টি হলেই। প্রায়ই অটোরিকশা সিএনজি উল্টে যেতে দেখা যায় সেখানে। কম শক্তির গাড়ি প্রায়ই কাঁদায় আটকে যায়, আর তৈরি হয় দীর্ঘ যানজটের। আর এর জন্য এলাকাবাসী দায়ী করছেন ঠিকাদারকে। তাদের মতে ঠিকাদারের গাফিলতির কারণেই বালুচর-বেতকা সড়ক কর্দমাক্ত মাঠে পরিণত হয়েছে।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচলকারী তিন উপজেলার হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসনগর কালভার্ট থেকে সাঈদ হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২শ ফুট সড়ক ৪ মাসের অধিক সময় মাটি কেটে রাখার ফলে সড়ক জুড়ে বৃষ্টির পনিতে ১ ফুট পরিমাণ কাদা মাটি জমে একাকার হয়ে গেছে। এর ফলে জনগনের ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসনগর কালভার্ট থেকে সাঈদ হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি কর্দমাক্ত মাঠে পরিণত হয়েছে। এর ফলে কিছুক্ষণ পরপর অটোরিকশা উল্টে কাদামাটিতে পড়ে যাচ্ছে। এর ফলে ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। এছাড়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকছে। জানা যায়, সিরাজদিখান বালুচর-বেতকা সড়কটির কার্পের্টি করার জন্য পুনে ৭ কোটি টাকার কাজ পান মোনালিসা নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
মোনালিসা নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বিল্লাল বলেন, বৃষ্টি এবং লকডাউনের কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যেই লকডাউন উঠে গেলে এবং বৃষ্টি কমে গেলে ১০-১২ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করে দেওয়া হবে।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শোয়াইব বিন আজাদ বলেন, বালুচর ইউনিয়নের খাসনগর কালভার্ট থেকে প্রায় ২শ ফিট রাস্তা আরসিসি ঢালাই করার জন্য কাজ শুরু করে। কিন্তু করোনাকালে এ সময়ে রাস্তা বন্ধ করে কাজ করা যাবে না সে জন্য কাজ বন্ধ আছে। কারণ রাস্তা দিয়ে বিজিপি, সেনাবাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি এবং রোগীবাহী এম্বুলেন্স চলাচল করে।
সে ক্ষেত্রে আমরা এ রাস্তাটি বন্ধ করিনি। আরসিসি ঢালাই দিতে হলে কিন্তু রাস্তা বন্ধ করে আমাদের কাজ করতে হবে। যেহেতু এখন দেশের মহামারী বৃদ্ধি পেয়েছে সে ক্ষেত্রে আমরা রাস্তাটি বন্ধ করিনি। কিন্তু ঠিকাদার কাজ করতে চাচ্ছে।
আমরা কাজ করতে তাদেরকে নিষেধ করেছি। তবে যেহেতু কাদা মাটি জমে গেছে এবং মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে সে ক্ষেত্রে আমরা কয়েকদিনের মধ্যেই রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়ে আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য চেষ্টা করব।
মোঃ মিজানুর রহমান/বার্তা বাজার/এসবি