সবাই টিকা পেলেও পাচ্ছেন না হিজড়ারা!

দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। এখন পর্যন্ত দেশে ১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে করোনার টিকা প্রদান করা হয়েছে। তবে টিকাদান কর্মসূচির বাইরে রয়েছেন হিজড়ারা।

করোনার টিকা নিতে চাইলেও উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না হিজড়ারা। করোনার টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। এর মধ্যে রয়েছে- জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা, বয়সসীমা নিয়ে বিভ্রান্তি, সুরক্ষা অ্যাপে হিজড়া অপশন না থাকা।

করোনার টিকা নেওয়ার জন্য সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করতে হয়। কিন্তু সেখানে হিজড়ারা অন্তর্ভুক্ত নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, হিজড়াদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে এখনই অধিদপ্তরের পরিকল্পনা নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, করোনার টিকা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে হিজড়ারা অগ্রাধিকার পাবেন। তবে তাদের কোনো সংগঠন থাকলে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসে এসে জানালে টিকা দেওয়ার দ্রুত ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে হিজড়াদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সচেতন সমাজসেবা হিজড়া সংঘের সম্পাদক ইভান আহমেদ বলেন, গত বছরের মে মাসে আমি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। পরে নেগেটিভ হয়েছি। এখনও আমি টিকা নিতে পারিনি। টিকা নিবন্ধনের অ্যাপে পুরুষ ও নারীর ঘর আছে। কিন্তু হিজড়াদের কোনো ঘর নেই। স্বীকৃতিই যদি না থাকে, তাহলে আমরা কীভাবে করোনার টিকা নেব?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, হিজড়াদের মধ্যে যাদের বয়সসীমা আছে, তারা সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করে অন্যদের মতো করোনার টিকা নিতে পারবেন। এতে বাধা নেই। হিজড়াদের নিয়ে কাজ করা কোনো উন্নয়ন সংস্থা এগিয়ে এলে এই বিষয়টি আরও সহজ হবে।

হিজড়াদের কর্মসংস্থান মূলত গণপরিবহন, রাস্তাঘাট, বাজার কিংবা বাসায় ঘুরে ঘুরে চাঁদা আদায় করা, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নাচা, নবজাতক নাচানো। এছাড়া কেউ কেউ যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করে থাকেন। সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। এর ফলে তাদের করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনা উচিত বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের কার্যকরী সদস্য ও রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, হিজড়াদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। দেশে এত বড় একটা টিকা কার্যক্রম চলছে। অথচ তারা একেবারেই উপেক্ষিত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত দ্রুতই তাদের টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা।

বার্তা বাজার/নব

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর