বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম, এপিইউবি’র চিঠি

অনুমোদনহীন কোর্স ও ক্যাম্পাস পরিচালনা, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন অভিযোগ যেন নিত্য নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকার বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। এসব দুর্নীতি বন্ধে দফায় দফায় ইউজিসি নোটিশ দিলেও তাতে আসেনি কোন পরিবর্তন। এবার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে খোদ বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)। তাই সম্প্রতি অনিয়ম-দুর্নীতি বিষয়ে সতর্ক করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চিঠি দিয়েছে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের এ সংগঠন।

এ প্রসঙ্গে এপিইউবি চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এমনিতেই বড় সংকটে রয়েছে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাত। পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনায় ভাবমূর্তির সংকটে পড়ছে এ খাত। তাই সমিতির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সাবধান করে দিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। আমরা চাই, সব বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও ইউজিসির নির্দেশনা মেনে চলুক। বিশেষ করে অনুমোদনহীনভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি, অবৈধভাবে প্রোগ্রাম চালানো—এ ধরনের অনিয়মগুলো বন্ধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এদিকে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালায় কোনো ধরনের সংশোধন প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জরুরি ভিত্তিতে মতামত পাঠাতে বলেছে এপিইউবি।

এপিইউবির দেয়া চিঠির শেষভাগে বলা হয়েছে, করোনাকালীন সময়ে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সচল রাখার ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আগামী দিনেও সবার সহযোগিতায় সব ধরনের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ভূমিকা রাখবে সমিতি। তবে সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা একান্ত অপরিহার্য। সমিতি আশা করছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন ও নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করবে।

এদিকে সমিতির এমন উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ইউজিসি। কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিত চন্দ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দেশের বেসরকারি খাতের উচ্চশিক্ষায় গত এক দশকে ব্যাপক হারে প্রসার ঘটেছে। এ প্রসার অনেকাংশেই সংখ্যায় সীমাবদ্ধ ছিল। তাই আমরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মানে অনেক বেশি জোর দিচ্ছি। তবে এক্ষেত্রে বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইন মানার ক্ষেত্রে না হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আমরা অনেক সময় শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে তাদের অনেক ছাড় দিয়ে থাকি। কিন্তু অনেকেই এর সুযোগ নিতে চান।

এপিউবির একটি সূত্র হতে জানা যায়, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসবে, তাদের কাছে আলাদা করে ব্যাখ্যা জানতে চাইবে সমিতি। তারই অংশ হিসেবে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিকে চিঠি দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ প্রসঙ্গে শেখ কবির হোসেন বলেন, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতির যেসব খবর বের হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য আমাদের জানাতে বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের জানালে আমরা সে আলোকে জবাব দিতে পারব। এছাড়া একটি বিশ্ববিদ্যালয় যখন কোনো অনিয়ম করে, তখন এটা গোটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই আমরা এ বিষয়গুলোকে এখন থেকে গুরুত্বসহকারে দেখব।

বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর