টিউবওয়েলের পাইপ কুপতেই বেরিয়ে এলো গ্যাস!
মাদারীপুরের রাজৈরে টিউবওয়েল কুপতে গিয়ে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে স্থানীয়রা।
উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের সুতারকান্দি গ্রামের মাহফুজ ফকির(৩০) নামে এক কৃষকের বাড়িতে এ গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়।
তিনি একই গ্রামের আব্দুল হাই ফকিরের ছেলে। এ নিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভুগছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি এই গ্যাস সংরক্ষণের জন্য অতি দ্রুত যেন সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীরা জানায়, মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে মাহফুজের নবনির্মিত পাঁকা বাড়িতে টিউবওয়েল বসানোর কাজ করছিল মিস্ত্রিরা।
এসময় প্রায় ৬০-৭০ ফুট মাটির নিচে পাইপ কোপা হয়। পরে হঠাৎ বিকট শব্দে সমস্ত পাইপ গুলো বেরিয়ে আসে। এতে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। একইসাথে ফুটন্ত পানির মতো বালু ও কাদা মাটি বেরিয়ে আসতে থাকে।
এবং নিচ থেকে গন্ধ বের হতে থাকলে তারা চট ও বালুভর্তি ছালা দিয়ে এটা বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে ৯৯৯-এ ফোন দেয় স্থানীয়রা। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজৈরের খালিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লোকজন এসে ঘটনাস্থলে গ্যাস আছে বলে সবাইকে জানিয়ে সতর্ক থাকতে বলেন।
এ খবর শুনে বুধবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকেই গ্যাসের আগুন দেখতে ভিড় জমাচ্ছে এলাকার শত শত মানুষ। তবে অতি দ্রুত এ গ্যাস সংরক্ষণ না করা হলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে দাবি স্থানীয়দের।
মাহফুজ ফকির জানান, গতকালকে আমার বাড়ির সামনে মিস্ত্রি দিয়ে টিউবল গারাই। এ সময় ৫/৬ টি পাইপ গাড়ে এবং হঠাৎ বিকট শব্দ হয়ে পাইপগুলো একদম উপরে উঠে যায়। পরে মাটির নিচ থেকে অনেক পরিমান বোগলা এবং গন্ধ আসতে থাকে।
এমন দেখে আমরা ইট বালি চাপা দিয়ে দেই। কিছুক্ষন পরে আগুন জ্বালাই দেখি এখানে গ্যাস আছে। এরপর আমরা ৯৯৯-এ ফোন দিলে তারা আমাদের এলাকার জনপ্রতিনিধিকে জানাতে বলে। তারপর স্থানীয় ইউপি মেম্বার তারা মিয়া ও ইউনিয়ন আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হালিম ফকিরকে জানাই।
এমদাদ হাওলাদার জানান, এখানে গ্যাস থাকার খবর শুনে আমি আসি এবং দেখি সত্যি এখানে গ্যাস আছে আগুন জ্বলতেছে। আমরা চাই এই গ্যাস সরকার সংরক্ষণ করে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করুক।
স্বপন জমাদ্দার জানান, কাজ করার সময় হঠাৎ শব্দ হইয়া নিচ থেকে গন্ধ বাহির হইতে ছিল। এ দেখে আমরা প্রথমে ভয় পেয়ে গেছিলাম। পরে বুঝতে পারলাম এখনে গ্যাস আছে। আমরা চাই এই জিনিসগুলো সংগ্রহ করা হোক।
টিটু ফকির জানান, আমাদের এলাকার আশপাশে কোনো পুস্কুনিতে মাছ হয় না। সব পুস্কুনির মাছগুলো মারা যায়। এর কারণ আমরা বুঝতে পারিনি। এখন বুঝলাম যে এখানে নিচ থেকে গ্যাস উঠার ফলে মাছগুলো মারা যায়। অতি তাড়াতাড়ি সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
রাজৈর ফায়ার সার্ভিস লিডার জাফর মোল্লা বলেন, আমরা ইউএনও স্যারের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ওইখানে গ্যাসের উপস্থিতি আছে তা বোঝা যায়। কারণ আগুন দিলে জ্বলে উঠে। এ বিষয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, আমরা বিষয়টা শুনেছি। শোনার সাথে সাথে ওখানে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন পাঠিয়েছিলাম। তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই স্থানটি সংরক্ষণ করে এসেছে, যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
এ বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। আসলে এখানে কতটুকু গ্যাস আছে বা গ্যাস আছে কিনা তা তো আমরা এখনো বলতে পারবো না। তবে ঢাকা থেকে এক্সপার্টরা এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে বলতে পারবে। তারপর আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তা বাজার/এসবি