করোনায় কাজ হারিয়ে সুকেন এখন বিনা বেতনের ট্রাফিক!

সুকেন কাজ করতো হোটেলে করোনায় হোটেল বন্ধ থাকায়। সুকেনের কাজ চলে যায়, সেই থেকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় সুকেনের।

বিনা পয়সায় স্বেচ্ছাসেবী ট্রাফিক এখন ‘সুকেন’। পুরো নাম সুকেন সরকার(৩০) তার পিতার নাম মনোরঞ্জন সরকার থাকেন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী সর্দার পাড়া আদিবাসী পল্লীতে ছোট একটি জরাজীর্ণ ঘরে মা,বাবা, স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস তার।

কিছু দিন ধরে বিনা পারিশ্রমিকে স্বেচ্ছায় ট্রাফিকের কাজ করছেন কুষ্টিয়া- রাজবাড়ী, কুমারখালী বাস স্ট্যান্ডে যানজট নিরসনে । তার এই উদ্যোগ কতটুকু মানুষের জানমালের ক্ষতি ঠেকাবে কেউ কি বলতে পারে । এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের?

নিজের এবং পরিবারের কথা চিন্তা না করে সব সময় যানজট নিরসনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন শুকেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, করোনায় কুমারখালীতে ছোট ছোট যানবহনের সংখ্যা বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে সুকেনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবুও মানুষ যাতে নিরাপদে বাড়িতে ফিরতে পারেন সর্বদা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছেন এই সেচ্ছাসেবী ট্রাফিক।

সুকেন দৌড়ে এসে বললেন ভাই, আমাকে সবাই পাগল বলে । বলা হলো কি কারণে পাগল বলে, তিনি জানান’ মানুষের মুখে মাস্ক না থাকলে মাস্ক পড়তে বললে, ভ্যান, অটো রিকশা, মোটরবাইক, সাইকেল কে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে নিষেধ করলে। আমার উপর অনেক মানুষ ক্ষিপ্ত হয়।

আবার অনেকেই আমার এই কাজে উৎসাহ দিচ্ছে । কিন্তু পেটে ভাত না থাকলে কি করে কাজ করবো। আমি হোটেলে কাজ করতাম করোনায় হোটেলের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আমার কোন রকম চলার গতি করলে আমি ধন্য।

কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড ফলের দোকানদার আজিজ সাহা বলল, এই মোড়ে দুর্ঘটনায় ঘটে। এখানে একটি ট্রাফিক পুলিশের প্রয়োজন । সুকেন বিনা বেতনে কাজ করছে। তার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে তার সংসার চালাতে হলে তো এই কাজ করে চলবে না।

সিএনজি চালক সাজাহান বলেন, কুমারখালী বাস স্ট্যান্ডে ছোট বড় দুর্ঘটনায় হয়। এখানে ট্রাফিক পুলিশের দরকার । হঠাৎ করে সুকেন নামে এক যুবককে যানজট মুক্ত করতে তাকে দেখা যাচ্ছে। এতে করে বাস স্ট্যান্ডে যানজট কম হচ্ছে।

পৌর ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস, এম রফিক বলেন, আমাদের দাবি ছিল কুমারখালী বাস স্ট্যান্ডে ট্রাফিক পুলিশের। এসপি সাহেব নিজে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এখানে ট্রাফিক পুলিশ দেবেন। আজো বাস্তবায়ন হয়নি। সুকেন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাফিকের কাজ করছে।

পৌর মেয়র সামছুজ্জামান অরুণ জানান, কুষ্টিয়া- রাজবাড়ী সড়কে যানবহনের চাপটা বেশি। মহা সড়কের দায়িত্ব আমাদের হাতে নেই, তবে সুকেন নামে একটি ছেলে ট্রাফিকের কাজ করছে। তার মতো মানুষের যদি মনে হয় এখানে ট্রাফিক পুলিশ দরকার। তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেন নজরে আসছেনা।

সুকেনের নেই কোন ট্রাফিকের অভিজ্ঞতা যে কোন মুহুর্তে সুকেনের বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি বাস স্ট্যান্ডে যতো দ্রুত সম্ভব ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করুন।

কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম সাংবাদিকদের এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কুমারখালী গোলচত্ত্বরে ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু করোনার ও লকডাউনের কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। আশা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ট্রাফিক পুলিশের বিষয়ে কাজ করা হবে।

মোশারফ হোসেন/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর