কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার অভ্যন্তরীণ চলাচলের বেশিরভাগ সড়কের বেহাল দশা হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উপজেলাবাসীকে।
নির্মাণের সময় অনিয়ম ও নির্মাণের পর দীর্ঘদীন সংস্কার না হওয়া এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খানা-খন্দে ভরা ৭৬টি কাঁচা পাঁকা সড়ক চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।
ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। কেবলমাত্র অনিয়ম ও দূনীর্তির কারনেই উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা জনর্দূভোগে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি সড়ক সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, জনগুরত্বপূর্ণ সড়কসহ গ্রামীন কাঁচা-পাকা ছোট বড় প্রায় ৭৬টি সড়ক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও সংস্কারের অভাবে একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সড়কগুলো হচ্ছে, রৌমারী সদর ইউনিয়নের নটানপাড়া জামে মসজিদ থেকে রতনপুর আব্দুল রশিদের বাড়ি পর্যন্ত ৩ কি.মি.পাকারাস্তা।
রৌমারী সদর বিওপি থেকে ইজলামারী নৌকা ঘাট পর্যন্ত চার কিলোমিটার পাকারাস্তা। কর্তিমারী বাজার হইতে চুলিয়ারচর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার পাকারাস্তা। সুতিরপার ভুন্দুর বাড়ি থেকে মোল্লারচর বিওপি পর্যন্ত দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা।
বকবান্দা হইতে চুলিয়ারচর পর্যন্ত তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। কান্দাপাড়া গ্রামের বাঁশের ব্রীজ থেকে মনোখার বাড়ি পর্যন্ত দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। ঠনঠনিপাড়া ডিসি রাস্তা থেকে কড়াইকান্দি পর্যন্ত এক কিলোমিটার কাঁচারাস্তা।
বন্দবেড় ইউনিয়নের থানা মোড় ডিসি রাস্তা থেকে পশ্চিমে পাখিউড়া ব্রীজ পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার পাকারাস্তা। রৌমারী প্রেসক্লাব থেকে কুটিরচর জামে মসজিদ পর্যন্ত পাকা রাস্তা তিন কিলোমিটার।
বন্দবেড় মদাব্যাপারির নৌকাঘাট থেকে দক্ষিণে বাঘমারা পর্যন্ত এক কিলোমিটার পাকা রাস্তা। কুটিরচর স্কুল থেকে বলদমারা পর্যন্ত চার কিলোমিটার কাঁচারাস্তা, কুটিরচর খেয়া ঘাট হইতে ফলুয়ারচর পর্যন্ত দুই কিলোমিটার কাঁচারাস্তা।
শৌলমারী ইউনিয়নের শৌলমারী প্রাইমারী স্কুল হইতে বেহুলারচর পর্যন্ত ৪ কিলো মিটার কাঁচা রাস্তা, কলমেরচর হইতে মাঠের ভিটা পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, চর বোয়ালমারী হইতে বড়াইকান্দি বাজার পর্যন্ত ৬ কিলো মিটার কাঁচা রাস্তা।
যাদুরচর ইউনিয়নের যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদ মোড় থেকে যাদুরচর পূর্বপাড়া আমির হামজার বাড়ি পর্যন্ত ১ কিলোমিটার, কর্ত্তিমারী বাজার পুর্বপাশ থেকে কাশিয়াবাড়ি কুড়ার মাথা পর্যন্ত ২ কিলোমিটার, যাদুরচর আবুল হাশেমের বাড়ি থেকে পুর্বপাড়া কাদেররের বাড়ি পর্যন্ত ১ কিলোমিটার
এ ছাড়া যাদুরচর জামে মসজিদ থেকে উত্তরে ওয়াহেদের বাড়ি পর্যন্ত ১ কিলোমিটার, গোলাবাড়ি ডিসি রাস্তা থেকে কাশিয়াবাড়ি দক্ষিনে কালু শেখের বাড়ি পর্যন্ত ১ কিলোমিটার, যাদুরচর হাইস্কুল থেকে উত্তরে গার্লস স্কুল পর্যন্ত ১কিলোমিটার, লালকুড়া পাকা রাস্তা থেকে জিঞ্জিরাম নদী পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সড়ক।
একই অবস্থা বাকি ২টি ইউনিয়নের সড়কগুলোর। এসব সড়কের নির্মান ও সংস্কারের সময় নিম্ন মানের কাজ হওয়ায় সড়কের দুই পাশের পার্কিং এর ইট, খোয়া ও মাটিসহ রাস্তা ধসে পড়ে রাস্তার প্রশস্থতা কমে গেছে।
কোথাও রাস্তার মাঝখানের পাথরসহ খোয়া উঠে বড় বড় খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো রাস্তায় আবার ব্রীজ কালভার্ডের সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
শৌলমারী ইউনিয়নের সুতিরপার গ্রামের আবু আসাদ, বন্দবেড় ইউনিয়নের সামাদ খাঁন, যাদুরচর ইউনিয়নের আনিছুর রহমান, সদর ইউনিয়নের আব্দুল আজিজসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, সড়কের অবস্থা বেহালদশা হওয়ায় জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
জীবনের ওপর ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতি বছর সরকারি বরাদ্দ টিআর, কাবিখা, কাবিটা, এলজিএসপি, এলজিইডিসহ বিভিন্ন প্রকল্প দেওয়া হলেও নাম মাত্র কাজ করে অর্থ আত্মসাত করা হয়। অনিয়ম দূর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক বার অভিযোগ দিলেও কার্যকরি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অনেক ক্ষেত্রে কর্মসৃজন কর্মসূচি (মঙ্গা) এর শ্রমিক দিয়ে আইওয়াস করে কিছু কাজ করা হয়েছিল। সড়কগুলো দ্রæত সংস্কারের দাবি জানিয়ে তারা আরও বলেন, কেবলমাত্র অনিয়ম ও দূনির্তীর কারনেই সড়কের সংস্কারের জন্য প্রতি বছর বরাদ্ধকৃত অর্থ আত্মসাৎ হয়ে যাচ্ছে। ।
অনিয়মের কথা অস্বিকার করে রৌমারী উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বার্তা বাজারকে বলেন, টিআর ও কাবিখা প্রকল্প দিয়ে কিছু রাস্তার কাজ করা হয়েছে।
এবং কিছু কাজ চলমান রয়েছে। বরাদ্দ কম থাকায় সব রাস্তার কাজ এক সাথে করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্প প্রনয়ন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে বাকি রাস্তার কাজ গুলোর কাজ করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশল (ভারপ্রাপ্ত) কুড়িগ্রাম এলজিইডির সিনিয়র প্রকৌশলী মো. মামুন খাঁন বলেন, উপজেলার পাকা রাস্তা রয়েছে ৬৫ কিলোমিটার ও কাঁচা রাস্তা রয়েছে ৪৮৯ কিলোমিটার।
আমি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পেয়েছি। বর্তমানে ৪টি প্যাকেজে ৭টি রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। কাজ গুলো শেষ হলে জনগণ কিছুটা হলেও সুবিধা পাবে।
ইয়াছির আরাফাত নাহিদ/বার্তা বাজার/এসবি