রাঙ্গাবালীতে ভারী বর্ষণে জনজীবন অচল, ব্যাহত চাষাবাদ
ভারী বর্ষণে থমকে গেছে রাঙ্গাবালীর কৃষিকাজ। জনজীবন অচল হয়ে পরেছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, বীজক্ষেত ও গৃহস্তের পুকুর। ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ। তলিয়ে থাকা বীজ পঁচে গেলে হালুটি করতে পারবে কি না এ নিয়ে চিন্তিত উপজেলার কৃষক।
মাত্র কয়েকদিন আগে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছিল উপজেলার শতাধিক মানুষ, পানি বন্দী হয়ে পরেছিল ১৩টি গ্রাম। ওই পানি নামতে না নামতেই শুরু হয় প্রবল বর্ষন। গত সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বর্ষনে তলিয়ে গেছে মাঠঘাট, ফসলি জমি, আমন ধানের বীজক্ষেত ও গৃহস্তের বাড়ির পুকুর। বেশি সংকটে পরেছে কৃষকরা। চাষাবাদ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে তাদের। হালুটি নিয়ে চিন্তিত তারা।
বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কৃষক কামাল মুফতী, জায়েদুল হাওলাদার, শহিদুল মিয়া, রাঙ্গাবালীর ইউসুফ, নাজমুল কবির সহ অনেকে জানান, একটানা বৃষ্টিতে বীজক্ষেত ও চাষের জমি তলিয়ে রয়েছে। চাষাবাদ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তলিয়ে থাকা বীজ পঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও গত তিন-চার দিনে যে ধান বুনোনের কথা ছিল, ক্ষেত পানিতে তলিয়ে থাকায় তাও বুনা সম্ভব হয়নি। এতে বীজধানের গজানো শিকর শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই ধান নষ্ট হয়ে গেলে বীজধান সংকটে পরবে তারা। দ্বিতীয়বার ধান কিনে বীজবুনা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তাদের।
প্রতিকার হিসেবে কৃষকরা আরও বলেন, পানি নামানোর জন্য জলকপাটের ব্যবস্থা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। প্রতি ইউনিয়নে আরও দুই তিনটা জলকপাট নির্মান করলে পানি নামাতে আর কোন অসুবিধা হয়না।
অপরদিকে, সৌর বিদ্যুতের উপর নির্ভর করে রাঙ্গাবালীর মানুষ। গত কয়েকদিনে সূর্য দেখা না পেয়ে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ সোলার সিষ্টেম। আগের মতো কুপিবাতি আর হেরিকেন জালিয়ে রাত কাটাতে হয় উপজেলাবাসীর।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম ফোনকলে কথা বলতে চাইলে, তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সাইফুল ইসলাম সায়েম/বার্তাবাজার/পি