অনাবৃষ্টিতে পাকুন্দিয়ায় আমন চাষ ও পাট জাগে সমস্যায় কৃষক

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আষাঢ় মাসের শুরুতে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও আর বৃষ্টির দেখা নেই। প্রচণ্ড রোদ আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে মাঝে মধ্যে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বৃষ্টিপাত হলেও এই বৃষ্টিপাতে বেশিরভাগ কৃষকের কোনো কাজে আসছে না। এতে করে সর্বত্র বর্ষাতেও খরায় পুড়ছে ফসলের মাঠ।

বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা পাট জাগ ও আমন চারা লাগাতে পারছেন না। আর যারা আগেই পাট জাগ দিয়েছিলেন সেগুলোও প্রচণ্ড দাবদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার (৪ আগষ্ট) উপজেলার পৌর সদরের আনোয়ারখালী, মধ্য পাকুন্দিয়া, নারান্দী, সুখিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানির অভাবে পাট জাগ ও জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা।

অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে শ্যালো ও মোটর চালিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছেন এবং আমনের চারা রোপণ করছেন। যারা বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করছেন তারা বিদ্যুতের লুকোচুরির খেলায় পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আমন আবাদ ও পাট জাগ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এদিকে পাট কেটে রেখে দিয়েছেন কৃষক, পানির অভাবে জাগ দিতে পারছেন না। আবার কেহ ট্রাক্টর দিয়ে দূরে নদী বা বিলে নিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন।

উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, নিচু জমিগুলোতে আমনের চারা রোপণের পর উঁচু জমিতে বৃষ্টির অভাবে চারা লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। জলাশয় সংকট ও পানি সমস্যার কারণে পাট জাগ দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

সুখিয়া ইউনিয়নের পাট চাষি জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা মূলত পাট চাষ করে থাকি জ্বালানির পাটখড়ির জন্য। এখন বাড়ির পাশের ডোবায় পানি না থাকায় শ্যালো মেশিন থেকে পানি এনে ডোবায় দিয়ে পাট জাগ দিচ্ছি।

ভরা বর্ষাতেও বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদ-নদী, খাল-বিলের পানি শুকিয়ে গেছে। বর্ষার পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে যারা আমনের জমি আবাদ করে তারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। তারা কোথাও পানি পাচ্ছেন না। এতে আগাম লাগানো ধানের ক্ষেতগুলো পানির অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা ফসল বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন এবং সেইসঙ্গে কৃষি বিভাগের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাদিরা আক্তার জানান, পাকুন্দিয়ায় আমনের চারা লাগানো শুরু হয়েছে। বৃষ্টির অভাবে জমিতে শ্যালো মেশিনে সেচ দিয়ে কৃষকরা চারা রোপণের কাজ করছেন। সময় আছে তাই সমস্যা হবে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের দোগাছি তৈরি করে রাখার জন্য বলা হয়েছে।

হুমায়ুন কবির/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর