বিদ্যালয় সংস্কারের টাকা দিয়ে গোয়ালঘর নির্মাণের অভিযোগ!

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় সরকারী হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন সংস্কারকাজের জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংস্কারের নামে যেনতেনভাবে কাজ করে বেশীরভাগ টাকা লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সুনির্দিষ্ট সংস্কার কাজে ওই অর্থ ব্যয় না করে বিদ্যালয়ের জমিতে মনগড়া সেমি পাকা একটি ঘর তৈরি করা হয়েছে। ঘরটিকে গোয়ালঘর বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর গত ১২ জুলাই বিদ্যালয়ের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পত্রে একাধিক পয়েন্টের মধ্যে রয়েছে – বিজ্ঞান ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ ১০ লক্ষ টাকা সুনির্দিষ্ট সংস্কার কাজে ব্যয় না করে গোয়ালঘর নির্মাণ।

অভিযোগ পত্রে উল্লেখ আছে, ২০২০ সালের দোকানঘর ভাড়ার টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়া, ২০২১ সালের এসএসসি, এসএসসি (ভোকেশনাল), ও অষ্টম শ্রেনীর ফরম ফিলাপ বাবদ আদায় হয় ২ লক্ষ ৩ হাজার টাকা কিন্তু ব্যাংকে জমা দেওয়া হয় ১ লক্ষ ৩ হাজার টাকা।

কোন প্রকার রেজুলেশন ছাড়াই অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারীকে বিদ্যালয়ের আয় থেকে বেতন প্রদান। বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গরু – বাছুড় পালন, প্যাটার্ণ বহির্ভূত শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের আয় থেকে বেতন প্রদান। বিদ্যালয়ে ১১ বছর ধরে কোন অভ্যন্তরীন অডিট কমিটি না করা। এছাড়াও ভাউচার সমন্বয়হীনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর পিরোজপুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সরকারী হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনটি ঊর্ধমুখী সম্প্রসারনের জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু ভবনটি ঊর্ধমুখী সম্প্রসারন সম্ভব না হওয়ায় স্কুলের জমিতে সেমি পাকা একটি ঘর তৈরি করা হয়।

তবে ওই ঘরটি কোন কাজে ব্যবহার করা হবে শিক্ষা প্রকৌশল অফিস তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ঘরটি তৈরি না হলে এটি আদৌ বিদ্যালয়ের কাজে আসবে কিনা এ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে স্হানীয়দের।

এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর পিরোজপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিভা সরকার জানান, সাধারনত বিদ্যালয়ের এই অর্থ থোক বরাদ্দমূলে আসে। মেরামতের কাজেই এ টাকা ব্যয় করা হয়। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সুবিধামত কাজে এ অর্থ ব্যয় করতে পারে।

অন্যদিকে উপ সহকারী প্রকৌশলী হানিফ মল্লিক বলেন, মূলত ১০ লক্ষ টাকার বরাদ্দটি বিদ্যালয়ের কোন মেরামতের কাজের জন্য নয়। বিজ্ঞান ভবন ঊর্ধমুখী সম্প্রসারনের জন্যই এ বরাদ্দ।

উপ সহকারী প্রকৌশলীর এ বক্তব্যের ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিভা সরকারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক খাতের টাকা আরেক খাতে ব্যয় করলে কি হবে? আমরা স্টিমেট অনুযায়ীতো কাজ করেছি।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া বিজ্ঞান ভবন সংস্কারের টাকা দিয়ে অন্য কোন ঘর তৈরি করা যাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিভা সরকার জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঊর্মি ভৌমিকের (ছুটিতে আছেন) সাথে আলোচনা করে নির্দিষ্ট খাতের বাইরে সেমি পাকা ঘরটি তৈরি করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত একটি রেজুলেশন আছে। তবে উপজেলা প্রশাসনে খোঁজ নিয়ে রেজুলেশন সংক্রান্ত এ ধরনের তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব ) মোঃ বশির আহমেদ জানান, বিজ্ঞান ভবন সংস্কারের টাকা দিয়ে অন্য কোন ঘর তৈরি করতে সুপারিশ করার এখতিয়ার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নেই। ভবনটি ঊর্ধমুখী সম্প্রসারণ সম্ভব না হলে বরাদ্দকৃত সরকারী অর্থ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত দেওয়া উচিত।

এদিকে মঠবাড়িয়া উপজেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এমাদুল হক খান সরকারী হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেছেন।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান।

উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ১২ জুলাই তারিখের লিখিত অভিযোগটি তদন্তাধীন আছে। অভিযোগে উল্লেখিত ৯টি পয়েন্টের মধ্যে আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত একটি পয়েন্টের তদন্ত শেষের পথে। ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন এসিল্যান্ড আকাশ কুমার কুন্ডু, সমাজসেবা অফিসার তরিকুল ইসলাম এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম ভুঁইয়ার বদলিজনিত কারনে একাডেমিক সুপারভাইজার রুহল আমিন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এখতিয়ারভুক্ত যে অভিযোগগুলো রয়েছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে তদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর