এক বছরেও শেষ হয়নি দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার তদন্ত

পটুয়াখালীর বাউফলে এক বছরেও শেষ হয়নি দুই যুবলীগ নেতা মো. রকিব উদ্দিন রুমন ও মো. ইশাদ তালুকদার হত্যা মামলার তদন্ত। এ সুযোগে জামিনে মুক্ত রয়েছেন আসামীরা। ফলে সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রুমন ও ইশাদের পরিবার।

হত্যার পর থেকেই পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেছিলেন নিহতদের পরিবার। তবে পুলিশ বলছেন বাদী পক্ষ মামলার তদন্তের স্বার্থে তেমন সহযোগীতা করছেন না।

গতবছর ২ আগস্ট স্থানীয় রাজনৈতিক কোন্দলের জেরে কেশবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি রকিব উদ্দিন রুমন ও সদস্য ইশাদ তালুকদারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত দুই যুবলীগ নেতা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

এঘটনায় নিহত রুমনের ভাই মো. মফিজ উদ্দিন মিন্টু কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাধারন সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন লাভলুকে প্রধান আসামী করে ৫৯জনের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এমামলায় পুলিশ প্রধান আসামীসহ ১৫জনকে গ্রেফতার করেন। আসামীরা এখন জামিনে মুক্ত রয়েছেন। চলমান রয়েছে মামলার তদন্ত।

অপরদিকে দুই যুবলীগ নেতার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সোমবার (২আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে কেশবপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা ও দোয়া মিলাদের আয়োজন করেন কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও সহয়োগী সংগঠন।

এসময় হত্যা মামলার প্রধান আসামীসহ সকল আসামীদের দৃষ্টান্তমুলক বিচার দাবি করে বক্তব্য রাখেন কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নিহত রুমন-ইশাদের বড় ভাই অধ্যক্ষ সাল্হে উদ্দিন পিকু, কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ, কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. বারেক মুন্সি, সাধারন সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মনিরুল ইসলাম খাঁন টিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান সুমন মুন্সি।

মামলার বাদী মো. মফিজ উদ্দিন মিন্টু বলেন,‘পুলিশ অদৃশ্য কারণে মামলার তদন্তে সময়ক্ষেপণ করছেন। এতে আসামীরা জামিনে মুক্তি লাভের সুযোগ নিয়েছেন। তারা জামিনে বের হয়ে আবারও হত্যার মত ঘটনা ঘটানো পায়তারা করছেন। গত ইউপি নির্বাচনে ওই মামলার আসামীরা সাদা কাফনের কাপড় পড়ে অসস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন এবং পুনরয় হত্যার ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেন।

নিহত রুমনের বোন জেবুন্নাহার অনি বলেন,‘ আসামী জামিনে মুক্ত হয়ে আমাদের প্রাণ নাশের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। এতে আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। বিচার নিয়ে আামদের সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে।

নিহত রুমনের মা মোসা. ফাতিমা বেগম ও ইশাদের মা রেহেনা বেগম বলেন,‘ রাজনীতিক কারনে আমারদের দুই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচার চাই। আসামীদের ফাঁসি চাই।

এবিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বগা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম খাঁন বলেন,‘ বাদী পক্ষের অভিযোগ মিথ্যা। যথাযথভাবে মামলা তদন্ত করে যাচ্ছি। করোনার কারনে কিছুটা সময় লাগছে। বাদী পক্ষ আমাদের তেমন সহযোগীতা করছে না।

এবিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন বলেন,‘ মামলা তদন্ত চলছে। অতি শীঘ্রই মামলার চুড়ান্ত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।

বার্তা বাজার / এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর