সারাদেশে অবৈধ আইপি টিভির সংখ্যা বাড়ছে। এসব আইপি টিভিতে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগের নামে তারা পরিচয় পত্র বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
সরকারি-বেসরকারি দফতর ও প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। দেশে কথিত এই টিভির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিভাগীয় ও জেলা শহরে চলছে শত শত অবৈধ আইপি টিভি। এসব অবৈধ আইপি টিভি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নিয়মনীতিহীন এসব আইপি টিভির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিছু আইপি টিভি গুজব রটায় অসত্য তথ্য পরিবেশন করে ও ভাড়ামোয় লিপ্ত। তাদের ধরতে মাঠে নামবে তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির কর্মকর্তারা।
এছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে এসব টিভি চ্যানেল জরুরি ভিত্তিতে বন্ধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
জানা গেছে, দেশের ৬১টি কোম্পানিকে আইপি টিভি সেবা দেয়ার অনুমতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। বাণিজ্যিকভাবে দেশে আইপি টিভি পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে একটি খসড়া করা হয়েছে। তবে সেটার এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি মন্ত্রণালয়।
এদিকে বিটিআরসির চিঠিতে বলা হয়েছে, আইপি টিভি কোনো টেলিভিশন চ্যানেল নয়, বরং এটা একটি প্রযুক্তি। একটি প্রযুক্তি, কেবলমাত্র বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের ডাউনলিংক অনুমোদিত চ্যানেল সমূহ শর্তসাপেক্ষে ‘ডিশ ব্যবসায়ী’দের ন্যায় ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে টিভি চ্যানেলসমূহ প্রদর্শন করে থাকে।
রাজধানীসহ দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গড়ে উঠেছে আইপি টিভি। কথিত এসব আইপি টিভিতে প্রতিনিধি নিয়োগের নামে চলে চাঁদাবাজি। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের উপকমিটি থেকে পদ হারানো হেলেনা জাহাঙ্গীরের অবৈধ আইপি টিভি জয়যাত্রার অফিসে র্যাব অভিযান চালানোর পর অবৈধ সব আইপি টিভির বিষয়টি আলোচনায় আসে। দেশের অন্যান্য ভুঁইফোড় আইপি টিভির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে।
তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এসব অনুমোদনহীন টিভি বন্ধের প্রশাসনিক দায়িত্ব বিটিভির। এ ব্যাপারে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিটিভির মহাপরিচালকের কাছে বার বার চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এদিকে বিটিভির বর্তমান কাঠামো এবং স্বল্প জনবল নিয়ে অনুমোদনহীন টিভি সম্প্রচার বন্ধে দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। পৃথক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ছাড়া অবৈধ সম্প্রচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছেই অনুমোদনহীন টিভির তালিকা রয়েছে। এসব আইপি টিভি কীভাবে পরিচালিত হয়, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা জানেন।
বার্তা বাজার/নব