১১ দিন পর কবর থেকে তোলা হলো পরকীয়ার বলি জলিলের মরদেহ

লালমনিরহাট পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের বলি হন মাঝাপাড়া এলাকার কাচামাল ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আব্দুল জলিলের হত্যার জট খুলে গেল।

গত ২২ জুলাই মৃত জলিলের স্ত্রী মমিনা বেগম বলেন, তার স্বামী রাতে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। এরপর মৃত জলিলের দাফন কার্য শেষ হয়। দাফল শেষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে মৃত জলিলের বউ এর সাথে মৃতের বড় ভাই আব্দুর রশিদের একটু কথা কাটা কাটি হয়। সেখানেই রশিদের সন্দেহ জাগে যে তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।

এরপর গত ২৫ জুলাই আব্দুর রশিদ লালমনিরহাট পুলিশ সুপার ও লালমনিরহাট সদর থানা বরাবর লেখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে ধরেই লালমনিরহাট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) মারুফা জামান ঘটনাস্থলে যান। সেই রাতে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহা আলম ও এস আই সাদ্দাম হোসেন বেশ কিছু লোককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালমনিরহাট সদর থানায় নিয়ে আসেন। গভীর রাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসা করে সবাইকে ছেড়েও দেওয়া হয়। পুলিশ যেন কোন কিছুই বুঝতে পারছে না। অবশেষে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে কিছু তথ্য পান পুলিশ।

তারপর জলিলের স্ত্রী মমিনা বেগম ও স্থানীয় ঔষধ দোকানদার গোলাম রব্বানীসহ আরও ২ জনকে লালমনিরহাট ডিবি কার্যালয়ে গত ২৭ জুলাই দুপুরে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে মমিনা ও রব্বানী জলিলকে হত্যার বিষয় স্বীকার করে। তারা দুজন পরকীয়া থাকার কারণে এই হত্যা করেছে বলে জানা যায়। পরে রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) মারুফা জামান মমিনাকে সাথে নিয়ে তার বাড়িতে এসে আলামত সংগ্রহ করেন। এই হত্যায় ২ জন জড়িত থাকায় মমিনা আর রব্বানীকে আটক করে বাকি ২ জনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

জানা যায়, লালমনিরহাট সদরের খুনিয়াগাছ এলাকার শাহার আলীর ছেলে আব্দুল জলিল প্রায় ৮ বছর আগে সাপটানা মাঝাপাড়া এলাকায় বউসহ বসবাস করে আসছেন। এদিকে ঢঢ গাছ এলাকায় রমজান আলীর ছেলে তিনদীঘি বাজারের ঔষধ দোকানী গোলাম রব্বানীর সাথে মমিনার পরকীয়া প্রেমে গড়ে উঠে। সেই কারণে গত ২২ জুলাই রাতে জলিলকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে তার স্ত্রী।

নিহতের পরিবার জানায়, “দুজন মিলে তাকে হত্যা করে। অথচ স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়েছে বলে মিথ্যা প্রচার করলো। আমরা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই যে, আমাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে দ্রুত হত্যা কান্ডের সমাধান করলো।এখন আমরা চাই খুনিদের ফাঁসি হোক।”

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহা আলম বলেন,”এই বিষয়ে হত্যা মামলা থানায় দায়ের হওয়ার পরেই আমরা বিষয়টি তদন্ত শুরু করি এবং সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়ে মৃতের স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিককে আটক করি।লাশ দাফনের এগারোদিন পর আজ বেলা এগারোটার দিকে মৃতের লাশ উত্তোলন করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।ময়নাতদন্তের ফলাফল এলেই হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

প্রদীপ কুমার আচার্য্য/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর