ভয়ে করোনা পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণে অনিহা ১৯ গ্রামের মানুষ

প্রায় ঘরে ঘরেই জ্বর-ঠান্ডার প্রকোপ বাড়ছে। শ্বাঃসকষ্টসহ অনেকের রয়েছে করোনার উপস্বর্গ। তবুও মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। মুখে নেই মাস্ক। পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক বসবাস করছেন তাঁরা।

এমন চিত্র কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চর সাদিপুর ইউনিয়নের। পদ্মা নদীর কারনে জেলা শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার এবং উপজেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার থেকে দুরে এই ইউনিয়নটি। ফলে এটি উপজেলায় রিমোর্ট এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।

‘করোনা হলে মানুষ মারা যায়, করোনায় সংক্রমণ মানুষের বাড়িতে কেউ আসেনা। আক্রান্ত মানুষকে অনেকটা আলাদা করা হয় সমাজ থেকে। সেই কারনেই এখানকার মানুষ করোনা পরীক্ষা করায় না। টিকাও গ্রহণ করেন না।’ এমনটায় জানিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা।

তবে স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানায়, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে রিমোর্ট এলাকা এটি। এখানকার মানুষের মাঝে শিক্ষা ও সচেতনতা কম। তাই মানুষ করোনা পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণ থেকে দূরে রয়েছে। লকডাউন ও সরকারি নির্দেশনাও তাঁরা মানেনা।

এলাকাবাসী জানায়, প্রায় ৯ টি গ্রাম নিয়ে পদ্মা নদীর ওপারে (দক্ষিণ – পশ্চিমাঞ্চল) চর সাদিপুর ইউনিয়ন। এখানে প্রায় ২২ হাজার মতো মানুষের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে ভরা পদ্মায় নৌকা আর শুস্ক মৌসুমে দুর্গম চরে প্রায় ৮ কিলোমিটার পাঁয়ে হেটে প্রায় ২০ কিলোমিটার দুরে উপজেলা শহরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে হয় ইউনিয়নবাসীর। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম, কষ্ট ও সময়সাধ্য এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় এখানকার মানুষ করোনা পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণ থেকে দুরে রয়েছেন।

এছাড়াও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও সেখানে নেই ডাক্তার ও সারঞ্জম। ফলে অনেকটায় স্বাস্থ্য ও করোনা ঝুকি নিয়েই বসবাস করছে এখানকার মানুষ।

অপরদিকে করোনা পরীক্ষা না করালেও জ্বর – ঠান্ডার ঔষুধ কিনতে ফার্মেসীতে ভিড় করছে মানুষ। এখানকার ফার্মেসীতে সংকট দেখা দিয়েছে জ্বর-ঠান্ডাজনিত ঔষুধ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়নের সাদিপুর বাজার ও ভোমড়ার মোড়ের ফার্মেসীস্ট ও পল্লীচিকিৎসকরা বলেন, প্রচুর পরিমানে জ্বর-ঠান্ডাজনিত ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছি।

এবিষয়ে চর সাদিপুর ইউনিয়নে বাসিন্দা ও স্থানীয় পত্রিকার সংবাদকর্মী মিজানুর রহমান মিজান ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি চাকুরীজিবি বলেন, চর সাদিপুর একটি রিমোর্ট এলাকা। উপজেলা ও জেলার সাথে বিচ্ছিন্ন স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখানকার মানুষ অশিক্ষিত ও অসচেতন। অধিকাংশ মানুষই জ্বর – ঠান্ডা ও করোনার উপস্বর্গ নিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে। কিন্তু দর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ হওয়ায় করোনা টেস্ট ও টিকা নেয়না মানুষ।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জেল হোসেন মানিক বলেন, এখানকার মানুষ অসচেতন। তাঁরা মনে করেন করোনা হলে মানুষ মারা যায়। সমাজ থেকে আলাদা করা হয়। কেউ এগিয়ে আসেনা। তাই ভয়ে তাঁরা করোনা পরীক্ষা করায় না। টিকাও নেয়না তাঁরা। তিনি আরো বলেন, মানুষ মনে করেন করোনা টেস্ট করালে ভ্যাকসিন দিয়ে মেরে ফেলেবে।

তিনি আরো বলেন, এপর্যন্ত প্রায় ২০ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। তাঁরা এখন সুস্থ আছে। তবে মৃত্যুর খবর পাইনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আকুল উদ্দিন বলেন, চর সাদিপুর ইউনিয়নের মানুষ সবচেয়ে কম করোনা টেস্ট করিয়েছেন। টিকাও নিয়েছেন কম। রিমোর্ট এরিয়া হওয়ায় তাঁরা আসতে পারেনা।

তিনি আরো বলেন, চেয়ারম্যান সাহেবকে একাধিকার বলা হয়েছে যে, অনেক গুলো অসুস্থ ও টিকা গ্রহণে আগ্রহী মানুষকে একত্রে করে খবর দেওয়া হলে সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডল বলেন, নতুন যোগদান করেছি। চর সাদিপুর একটি রিমোর্ট এলাকা। সেখান করোনা পরিস্থিতির খবর পেয়েছি। প্রয়োজনবোধে সেখানে অস্থায়ী ক্যাম্প করে করোনা টেস্ট ও টিকা দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, লকডাউন মানেন তাঁরা – এমন খবও পেয়েছি। ইউনিয়ন কমিটি জোরদার করা হবে।

মোশারফ হোসেন/বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর