আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় তিনদিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ জুলাই) রাতে হেলেনাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় হেলেনাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তবে আদালত হেলেনার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে তিনদিনের রিমান্ডের প্রথম দিনে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। হেলেনা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রথমে সখ্যতা গড়ে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করতেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (৩১ জুলাই) র্যাব সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, হেলেনা সুনির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির জন্য থেমে থাকেননি। বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছে তার। সে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যাকে প্রয়োজন তাকে ব্যবহার করেছে।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তির সঙ্গে ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতেন কেবল নিজের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। যা তাদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন, জনগণের মধ্যেও এ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরের স্বামী ১৯৯০ সাল থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে অন্যদের সঙ্গে পার্টনারশিপে ব্যবসা শুরু করে এখন পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। জয়যাত্রা টেলিভিশনে প্রতিনিধি নিয়োগের নামে হেলেনা জাহাঙ্গীর মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করতেন।
খন্দকার আল মঈন বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর আমাদেরকে জানিয়েছেন- তার ১৫ থেকে ১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। তিনি বেশ কয়েকটি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে জড়িত। চাঁদাবাজি কিংবা ব্ল্যাকমেইল করে আদায় করা টাকা তিনি ফাউন্ডেশনে কাজে লাগাতেন।
তিনি আরও বলেন, হেলেনা ফাউন্ডেশনের নামে প্রবাসীদের কাছ থেকে অনেক টাকা এনেছেন। তবে এগুলো কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে ফ্ল্যাট কিংবা গাড়ির সংখ্যা কতগুলো সে বিষয়ে প্রকৃত কোনো তথ্য আমাদের দিতে পারেননি হেলেনা। কখনো ৬টি গাড়ি, কখনো ৮ গাড়ির কথা বলছেন। এসব বিষয়ে যারা তদন্ত করবেন তারা খতিয়ে দেখবেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশানের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, ক্যাসিনোর সরঞ্জাম, বৈদেশিক মুদ্রা, হরিণের চামড়া ও চাকু জব্দ করে র্যাব।
এরপর গতকাল (শুক্রবার) হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি এবং মাদক, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও টেলিযোগাযোগ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন হেলেনা।
বার্তা বাজার/নব