ঠাকুরগাঁও জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে রাসেল ইসলাম। দরিদ্র কৃষক পরিবারের এই ছেলে মাত্র ২১ বছর বয়সে এক পায়ে দড়ি লাফানো খেলায় (স্কিপিং রোপে) গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে।
সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের হরিহরপুর সিরাজপাড়া গ্রামের কৃষক বজলুর রহমানের ছেলে রাসেল। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ১শ’ ৪৫ বার ও এক মিনিটে ২শ’ ৫৮ বার এক পায়ে দড়ি লাফিয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে।
এক পায়ে ৩০ সেকেন্ড স্কিপিং রোপে ১৪৪ বার লাফানোর বিশ্ব রেকর্ড থাকলেও রাসেল করেছে ১৪৫ বার। আর এক মিনিটে এক পায়ে ২৫৬ বার লাফানোর বিশ্ব রেকর্ড থাকলেও সেই রেকর্ড ভেঙে লাফিয়েছে ২৫৮ বার।
রাসেলের প্রশিক্ষক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সাজিদ আহমেদ রানা জানান, রাসেল ঠাকুরগাঁও শিবগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র। স্কুল জীবন ২০১৭ সাল থেকেই স্কিপিং রোপ খেলা শুরু তার। এক সময় জেলা থেকে বিভাগ পর্যায়ে স্কিপিং রোপে প্রথম হয় সে। বিভাগ থেকে জাতীয় পর্যায়ে স্কিপিং রোপে অংশগ্রহণ করতে গেলে অজ্ঞাত কারণে তাকে অংশগ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত করা হয়। তখন থেকেই সে প্রতিজ্ঞা করে, একদিন এই খেলা নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার।
তিনি আরও বলেন, সেই থেকে বাসার আশপাশে বিভিন্ন সড়কের ধারে যখন যেখানে সময় পেয়েছে সেখানেই স্কিপিং রোপের চর্চা করেছে সে। অবশেষে, নিজেকে এই খেলায় পরিপূর্ণ মনে হলে ২০১৯ সালে অনলাইনের মাধ্যমে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদন করে রাসেল। স্কিপিং রোপে এক পায়ের ওপর দুটি বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করে সে। একটি ৩০ সেকেন্ডের অন্যটি এক মিনিটের।
আবেদনের তিন মাস পর গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড থেকে কিছু গাইডলাইনসহ একটি রিপ্লাই পায় রাসেল। সেখানে তারা তাদের নিয়ম মতো কিছু ভিডিও চায় তার কাছে। সেই সঙ্গে কীভাবে সেগুলো করতে হবে তারও বিস্তারিত দেওয়া হয়। এরপর কিছুদিন আরও মনোযোগ দিয়ে চর্চা করে সেই ভিডিওগুলো তাদের পাঠায় রাসেল।
অবশেষে বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে একটি নতুন রেকর্ড গড়ে রাসেল। প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ডাক যোগের মাধ্যমে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড-এর দুটি সনদপত্র (সার্টিফিকেট) গত বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) পায় রাসেল। তার লক্ষ্য এখন সাউথ এশিয়ান গেমস ও আন্তর্জাতিকভাবে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে খেলায় অংশগ্রহণ করা।
রাসেলের পিতা বজলুর রহমান বলেন, একজন গরিব কৃষক হয়েও যথাসাধ্য আমার ছেলেকে সহযোগিতা করেছি। আমার ছেলে আজকে এমন এক পর্যায়ে গেছে, আমার খুব ভালো লাগছে।
এমন অর্জনে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান। পৃষ্ঠপোষকতার জন্য তার কোনো প্রয়োজন হলে তাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া তাঁর এই অর্জনে শুভেচ্ছা প্রদান করেছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা।
এস. এম. মনিরুজ্জামান মিলন/বার্তা বাজার/এসবি