জনবহুল এলাকায় অবাধে ছড়াচ্ছে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী এসিড নিঃসৃত ধোঁয়া
করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ অমান্য করে অবাধে কারখানা খোলা রেখে এসডি দিয়ে স্বর্ণ, রোপা গলানো হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। শহরের কালাইশ্রীপাড়া এলাকায় শ্রী গণেশ গোল্ড এন্ড সিলভার রিফাইনারীসহ একাধিক কারখানায় অবাধে চলছে এ কাজ। এতে করে বিষাক্ত ধোয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্বিঘ্নে চলে এ কাজ।
বাইরে তালাবদ্ধ থাকলেও ভিতরে চলে কার্যক্রম। মাঝে মাঝে প্রশাসনের তৎপড়তা দেখলে কিছুক্ষণের জন্য কারখানা বন্ধ করে গা ঢাকা দিলেও পূণরায় চলে কাজ। এতে করে করোনাকালীন সময়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কারখানাটির ছাদের উপরে একাধিক মোটা পাইপ দিয়ে এসিড নিঃসৃত বিষাক্ত ধোয়া বের করছে। এতে আশপাশের ভবনের ভিতরে নিয়মিত ধোয়া প্রবেশ করছে। মহামারী করোনায় যখন পুরো বিশ্ব বিপর্যস্ত তখন এর বিষাক্ত ধোয়া নাকে মুখে প্রবেশ করায় শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগের সৃষ্টি হচ্ছে।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্যাটের নেতৃত্বে একাধিকবার অভিযান চালালেও উপস্থিতি টের পেয়ে দোকান তালা দিয়ে পালিয়ে যান।
অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চোরাই র্স্বণ এখানে এনে গলানো হয়। ইতিমধ্যে আশপাশের দোকান থেকে চোরাই স্বর্ণ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাধারণ লোকজনের দাবি, বিষাক্ত কারখানাটি জনবহুল এলাকা থেকে সরিয়ে লোকবসতি যেখানে কম এমন স্থানে স্থান্তাতর করা হোক। এ বিষয়ে তারা পরিবেশ অধিদপ্তরসহ জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফাইজুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে শ্বাসকষ্ট হাপানি ছাড়াও র্দীঘ মেয়াদী বিষাক্ত ধোয়ার প্রভাবে মানুষের শরীরে ক্যান্সারের মত জটিল রোগ হতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্বর্ণ শিল্প ও জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনিক, বিষাক্ত ধোঁয়া বের হওয়ার কথা স্বীকার করলেও জনবহুল এলাকায় এ ধরনের কারখানা স্থাপন করা যায় জানতে চাইলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল আমিন বলেন, তাদেরকে একাধিবার নোটিশ করা হয়েছে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মোঃ রাসেল আহমেদ/বার্তাবাজার/পি