অবৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন, নেই প্রশাসনের অনুমোদন
লালমনিরহাটের সদর উপজেলায় প্রকাশ্যেই কারখানা করে অবৈধভাবে পলিথিন উৎপাদন করছেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী সালাম মিয়া।
উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সাকোয়া বাজারে জহুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাড়ি সংলগ্ন একটি ঘর ভাড়া নিয়ে কারখানা চালাচ্ছে সালাম মিয়া।
জানা যায়, সালাম দীর্ঘদিন ঢাকার পলিথিন কারখানায় কাজ করেছিলেন। গ্রামে ফিরে তিনি এই কারখানাটি স্থাপন করেছেন। প্রায় ৭ মাস আগে আদিতমারী উপজেলার বিশবাড়ী এলাকায় ডিইওর অনুমতি ছাড়াই কারখানা করে ক্ষতিকারক ও পরিবেশ দূষণকারী পলিথিন উৎপাদন করতো সালাম মিয়া।
সম্প্রতি আদিতমারী উপজেলার বিশবাড়ী থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার সাঁকোয়া বাজারে কারখানা প্রতিস্থাপন করে সালাম মিয়া।
সেখানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভিতর থেকে তালাবদ্ধ করে পলিথিন উৎপাদন এর কাজ চালানো হচ্ছে। একাধিকবার ডাকার পরেও কেউ কোন সাড়া দেয়নি এবং দরজা খুলে দেয়নি। এমনকি কারখানার মালিক সালাম মিয়ার সাথেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হতে হয়।
পরিবেশের উপর ও বাস্তুতন্ত্রের উপরে পলিথিন খুবই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে বলে জানান লালমনিরহাট সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি আরও জানান, পলিথিন মাটিতে পানি ও প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদানের চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে, কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, মাটির অভ্যন্তরে চলে যাওয়ায় মাটিতে থাকা অণুজীবগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে না, মাটির নিচে পানি চলাচলেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়, এমনকি এটা জলাশয়ে গিয়ে মাছের উৎপাদন নষ্ট করে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিস্তারিত তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) উত্তম কুমার বলেন, ‘বিষয়টি জানা ছিলোনা। বিস্তারিত তথ্য পেলে সেই কারখানার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ‘জেলায় কোন পলিথিন কারখানাকে অনুমোদন দেয়া হয়নি। কেউ অবৈধ ভাবে কারখানা চালালে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
প্রদীপ কুমার আচার্য্য/বার্তাবাজার/এসবি