লকডাউনে কেরানীগঞ্জে কষ্টে জীবনযাপন করছে বেদে সম্প্রদায়

করোনা মহামারীর কারণে সরকার কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছেন আর এই লকডাউনের কারণে কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে কেরানীগঞ্জের বেদে সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার। তাদের নেই কোন স্থায়ী বাসস্থান তারা অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে ঘর তুলে বসবাস করে।

বেদে মহিলারা বেশিরভাগ সিঙগা লাগানো, দাঁতের পোকা ফালানো এসব করে জীবিকা নির্বাহ করে। আর কিছু মহিলা মেয়েদর চুড়ি, ফিতা বিক্রি করে থাকে। আর বেদে পুরুষরা সাপের খেলা দেখা ও কড়ি বিক্রি করে। কিন্তু আধুনিক এ যুগে মানুষ তাদের কাছে চিকিৎসা সেবা নেয় না। এতে তাদের আয়ও কমে গেছে। প্রতিদিন যে টাকা রোজগার করতো তা দিয়েই কোনো রকম ভাবে সংসার চালিয়ে আসছিল। কিন্তু কঠোর লকডাউনের কারণে তাদের রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। তাই স্ত্রী সন্তান নিয়ে না খেয়েই থাকতে হয় অনেক সময়। সরকারের দেয়া ত্রান সহযোগিতা থেকে ও বঞ্চিত তারা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ওই বেদে বস্তিতে বেদে ছাড়াও ছিন্নমূল অনেক মানুষ বসবাস করেন। নদী ভাঙনে যাদের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে তারাও এখানে এসে বসবাস করছেন। তাদের অবস্থা এখন সংকটময়। সীমাহীন কষ্টে আছেন তারাও। দেখেও যেনো কেউ দেখছেন না তাদের। ক্ষুধার জ্বালায় বাধ্য হয়ে কাজের সন্ধানেও রাস্তায় নামতে পারছেন না তারা।

জ্যোৎস্না নামে এক বেদে নারী বলেন, আমাগো কোন মানুষেরা বাড়িতে কাম কাইজ করতেও রাহেনা। তাই বাধ্য হইয়া পেটের দায়ে পোলাপাইনগো খাওয়াইয়া বাঁচানোর লাইগা আপনাগো মতন সাহেবগো কাছে আইসা হাতে পায় ধইরা টাকা রোজগার কইরা বাজার সদাই করে ডেড়ায় ফিরা যাই। ততক্ষণ আমাগো পোলাপানইরা সারাদিন না খাইয়া আমাগো পানে চাইয়া থাকে। আর করোনার কথা কন আমাগো জীবনডাইতো মহামারী, দুর্যোগ আর শেয়াল, কুকুরের সাথে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বসবাস। আমাগো রোগ বালাই হইলেও কোন হাসপাতালে ভর্তি নেয় না। তাই আপনি ভেবে দেখেন আমরা কত অসহায়, দুঃখ বেদনা আমাদের নিত্য দিনের সাথী।আমাগো কোন উৎসব নাই, আমরা সব থেকে কষ্টের ভিতর এই লকডাউনে আমরা কোন খাবার আজ পযন্ত পাইনি, আমাদের কেউ খবর ও নেই না।

নদীতে ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার পর সিরাজুল ইসলাম তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে এই বেদে বস্তিতে বসবাস করেন, তিনি একটি সিলভার এর কারখানায় কাজ করতেন। লকডাউনের কারণে কারখানা বন্ধ থাকায় তিনি পরিবার নিয়ে ঘর বন্দী জীবনযাপন করছেন। এদিকে তার ঘরে একদিনের খাবার আছে মাত্র। এর পর সে কিভাবে খাবার জোগার করবে এই ভাবনায় তার চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন। তাই তিনি সরকারের পাশাপাশি এলাকার বিত্তবানদের সহযোগীতা কামনা করেন।

এদিকে স্বপ্না নামে ছোট শিশু মেয়েটি বাবাকে হারিয়ে এতিম। মা সংসার চালাতে পারছে না। মানুষের কাছে চেয়ে যা পেতো তাই স্বপ্না ও তার অন্য ভাই বোনকে খাওয়াতো। লকডাউনে মা ঘর থেকে বেড় হতে পারছে না তাই স্বপ্নাকে প্রায়ই না খেয়ে থাকতে হয়। গত দুইদিন যাবত স্বপ্না পেট ভরে কিছু খেতে পারেনি। কেউ কিছু দিলে খাবার খেতে পেরেছে না দিলে ক্ষুদার জ্বালা সহ্য করেই তাকে থাকতে হচ্ছে।

রানা আহমেদ/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর