এমপির ছেলের টাকায় বাঁচার স্বপ্ন, গুঁড়িয়ে দিল ইউপি সচিব
মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে থমকে গেছে পুরো বিশ্ব। থেমে গেছে মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন যাত্রা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ছোট্র একটি চায়ের দোকানে পরিবারের ৭ সদস্য নিয়ে সংসার চলতো আব্দুল খালেকের। এই মহামারি করোনা ভাইরাস বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য লকডাউন দিয়েছেন।
দীর্ঘ দিনের লকডাউনে আব্দুল খালেকের ঘরে ১ কেজি চাউল না থাকায়, আত্মহত্যার পথ খুঁজে নিয়েছিলেন। আর সেই খবর পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মজাহারুল হক প্রধানের ছেলে শুভ জানতে পেরে এলাকায় এসে আব্দুল খালেক এর হাতে কুরবানি ঈদের আগে কিছু আর্থিক সহযোগীতা করেন। আর সেই টাকা দিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেন আব্দুল খালেক। শুরু করেন ছোট্র চায়ের দোকান। আর এই চায়ের দোকানে দৈনিক ২০০/২৫০ টাকা আয় করে কোন মতে খেয়ে না খেয়ে সংসার চলতে থাকে তাদের।
এলাকার মধ্যে সবচেয়ে গরিব ও ভালো মানুষ হওয়ায় সবাই মিলে সহযোগীতা করতো। কিন্তু কে জানতো তার দোকানের উপর দিয়ে কালবৈশাখীর ঝঁড় যাবে।
শুক্রবার (৩০ জুলাই) ঘরে খাবার না থাকায় দোকান নিয়ে ওই উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের শিলাইকুঠি বাজারে নিজের বানানো কিছু জিনিস দিয়ে দোকানদারি শুরু করে। বিকাল ২ টা ৫০ ঘটিকার সময়ে দোকান নিয়ে বাড়ির আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আব্দুল খালেক। এমতাবস্থায় ওই ইউনিয়নের সচিব আলোপ্তগীণ মুকুল গ্রামপুলিশ নিয়ে ওই দোকানের কাছে গিয়ে কোন কথা না বলে, চায়ের দোকানের সমস্ত মালামাল মাটির নিচে ফেলে দেয়। অঝরে কাঁদতে শুরু করেন আব্দুল খালেক মিয়া। তার কান্নাকাটি দেখে এলাকার মানুষ ভিড় জমায়।
এ বিষয়ে আব্দুল খালেক জানান, এমপির ছেলের টাকায় এ চায়ের দোকানটি করে কোন মতে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। এখন তিনি কি করবেন এমন চিন্তায় ভোগতেছেন।
ওই ইউনিয়নের সরকার পাড়া গ্রামের মোজাফর হোসেন জানান, ইউপি সচিব ২ টা ৫০ মিনিটে এসে দোকানের সমস্ত মালামাল মাটির নিচে ফেলে দিতে শুরু করেন। কোন দোকানের মালমাল গুছানোর মতো সুযোগ দেয়নি।
ওই ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মো: ওমর ফারুক জানান, ওই দোকানদার আব্দুল খালেক খুবই গরিব মানুষ এভাবে তার মালামাল ফেলা ঠিক হয়নি।
৫ নং বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি বাদশা সুলায়মান জানান, ওই ইউপি সচিবের কর্মকান্ডে এলাকাবাসী অনেক ক্ষিপ্ত। তিনি আরো বলেন যে, আব্দুল খালেক দোকানদার যদি অপরাধ করে থাকে তাহলে তার জন্য শাস্তি আছে, এভাবে তার মালামাল নষ্ট করা মোটেই ঠিক হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, বিষয়টি শুনেছি তার সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এস,এম আল-আমিন/বার্তাবাজার/পি