আলফাডাঙ্গায় ‘ভূল চিকিৎসা’য় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভূল চিকিৎসায় সাবিনা ইয়াসমিন নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা সদরে কলেজ রোডে অবস্থিত এ্যাপোলো জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।
সাবিনা ইয়াসমিন পার্শ্ববর্তী কাশিয়ানী উপজেলার নড়াইল এলাকার মো. জাকির হোসেন ওরফে খান নঈমের স্ত্রী।
সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামী জাকির হোসেনের অভিযোগ, তার স্ত্রীকে কোন ডাক্তার অপারেশন করেনি, অপারেশন করেছে হাসপাতালের মালিক এবং হাসপাতালেই রোগী মারা গেছে।
শুক্রবার (৩০ জুলাই) বিকালে তিনি সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রীকে সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে এ্যাপোলো জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতাল থেকে জানানো হয় রক্ত পরীক্ষার পর অপারেশন করবে। পরে বাজারে আমাকে কিছু অপারেশন সরঞ্জাম কিনতে পাঠায়।
আমি কিনে আনার পর শুনি অপারেশন করা হয়ে গেছে। তারপর প্রায় দেড়ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ওটি থেকে আমার স্ত্রীকে বের করে না। তারপর আমি ওটিতে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা জানায় রোগীর অবস্থা খারাপ ফরিদপুর নিয়ে যেতে হবে।
তখন তাড়াহুড়ো করে বের করে আনলে তখন দেখি সে আর বেঁচে নেই। মুখ চোখ কালো হয়ে গেছে। তারপরেও ফরিদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে নেওয়ার পরে ডাক্তার দেখে বলে মারা গেছে।
এ বিষয়ে ক্লিনিকের নার্স বাসন্তী সরকার বলেন, ডা. আসাদুজ্জামান কামাল ও ডা. ফজলুল করিম আকবর নামের দুই ডাক্তার অপারেশন করেছে। অপারেশন করার পরে রোগীর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং তার পেট ফুলে ওঠে। ক্লিনিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি না থাকায় তারা ফরিদপুর পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগী মারা গেছে।
জানতে চাইলে মুঠোফোনে ডা. ফজলুল করিম আকবর বলেন, ডা. আসাদুজ্জামান কামাল ও আমি অপারেশন করেছি। অপারেশন করার পরে হঠাৎ করে প্রচুর পরিমাণে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট হয়। তারপরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর পাঠানো হয়। অপারেশনে কোন রকম ভূল হয়নি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ক্লিনিকের সত্ত্বাধিকারী নূর ইসলামের বক্তব্য জানতে ক্লিনিকে গিয়েও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মিয়া রাকিবুল/বার্তা বাজার/টি