কলম্বো লেবু চাষে স্বাবলম্বী রায়পুরার বাবুল চৌধুরী

সুগন্ধিযুক্ত কলম্বো লেবু চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন রায়পুরার বাবুল চৌধুরী। তিনি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের গুকলনগর গ্রামের সৈয়দ হুসেন (দুলু মিয়ার) ছেলে বাবুল চৌধুরী।

দীর্ঘদিন যাবত বাণিজ্যিকভাবে কলম্বো জাতের লেবুর আবাদ করে আসছেন তিনি। তিনি দিনমুজুরদের সাথে থেকে সারা বছরই বাগানে মাটি তোলা, চারা তৈরি, সার দেওয়া, লেবু তুলে বাজারে বিক্রি করাসহ বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন।
সুগন্ধি, সুস্বাদু ও প্রচুর রসযুক্ত হওয়ায় এই লেবুর কদর সবচেয়ে বেশি। দেশ ছাড়িয়ে স্থান করে নিয়েছে বিশ্ব বাজারে।

তা ছাড়ও এখানকার লেবু বিক্রি হয় রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজার, শ্যামবাজার ও গাজীপুরের টঙ্গী বাজারসহ সারাদেশে। বাবুল চৌধুরী নরসিংদী জেলার একজন সফল লেবু চাষি।

তার মাঝে হানা দিয়েছে করোনা, দীর্ঘদিন যাবত রপ্তানি বন্ধ থাকায় তিনি পরেছেন বিপাকে। বর্তমানে এই দুঃসময়ে রপ্তানি বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিকভাবে তার বেশ মন্দা যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নারায়ন বিশ্বাস, চন্দ্র শীল, সামসুলসহ অনেকে জানান, তার সফলতা দেখে গ্রামের বেশ চাষি উদ্ভুদ্ধ হয়ে লেবু চাষ শুরু করেছে । সারাদেশসহ স্থানীয় বাজার গুলোতেও এ লেবুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যার ফলে তারা বাড়তি আয় করছেন। তা ছাড়াও এই গ্রামের চাষীদের দারিদ্রতা বিমোচনেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে ।

বাবুল চৌধুরী বার্তা বাজারকে বলেন, গত ২০ বছর পূর্বে নিজ উদ্যোগে ভারত থেকে ৩৫ হাজার টাকায় কলম্বো জাতের এক হাজার চারা ২শ ৪০ শতক জমিতে রোপণ করি। প্রতিবছর কলব করে ১ হাজার ৪ শ শতক জমিতে বানিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ শুরু করি। এই লেবু চাষ করে অথনৈতিকভাবে সফলতা পেয়েছি।

রোগ মুক্ত উৎপাদনের কারণে এখানকার লেবু বাগানে পরিদর্শনে এসে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ইউরোপীয় প্রতিনিধি দল। তারা এই লেবু আমদানিতে আগ্রহী হয়ে উঠে। সারা বছর ধরেই এখানকার উৎপাদিত লেবু রপ্তানি হতো ইতালি, ফ্রান্স লন্ডনসহ ইউরোপের দেশগুলোতে। প্রতিবছর ২০-২৫ লাখ টাকা আয় হতো।

করোনা কালীন এই দুঃসময়ে গত ১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে রপ্তানি বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিকভাবে মন্ধা যাচ্ছে। সেখানে গত দু’বছর ৫ লাখে চলে এসেছে। পাশাপাশি কলব করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার চারা ২০ থেকে ২৫ টাকা পিছ বিক্রি করতে পরতাম। কিন্তু বর্তমানে করোনার কারনে লেবু ব‍্যবসা খুব মন্দা যাচ্ছে। বাজারেও দাম কম হওয়ায় সস্তায় বিক্রি করতে হচ্ছে। খরচ বেশি আয় কমে গেছে।

রায়পুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বনি আমিন খান বলেন, উপজেলায় উৎপাদিত লেবুর বড় অংশ বহির্বিশ্বে রফতানি হচ্ছে। তার বাগানের সুগন্ধিযুক্ত কলম্বো লেবু।

ইউরোপের বাজারে রপ্তানি হতো। করোনার কারনে কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। আশা করি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে পূর্বের ন্যয় আবারও রপ্তানি শুরু হবে।

একে এম রেজাউল করিম/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর