ঠাঁই নেই হাসপাতালে, ভর্তি হতে না পেরে ফিরে যাচ্ছে রোগীরা

প্রাণঘাতী করোনায় প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। সেই সাথে রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। ফলে আইসিইউ ও সাধারণ শয্যার জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। ঈদের পর থেকেই হাসপাতালগুলোতে সাধারণ শয্যা ও আইসিইউ সংকট দেখা দেয়। গত ৩ দিনে তা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

প্রতিদিন রাজধানীর বাইরের ২ শতাধিক রোগী আসছেন আইসিইউ-এর জন্য। আইসিইউ- থেকে সাধারণ শয্যার জন্য রোগী আসার সংখ্যা এর কয়েক গুণ বেশি। রোগীদের আইসিইউ-এর জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রতিদিন মাত্র ২ একটা বেড খালি হচ্ছে। কোনও রোগী সুস্থ হলে কিংবা মারা গেলেই কেবল শয্যা খালি হয়। এমতাবস্থায় হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে রোগী নিয়ে ঘুরছেন স্বজনরা। করোনার থাবা থেকে বাঁচতে ঠাঁই মিলছে না হাসপাতালে।

বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে অসংখ্য রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। শেষে ভর্তি হতে না পেরে বাড়ি ফিরে গেছেন অনেক রোগী। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের সামনে ‘সিট খালি’ নেই জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি টানাতে বাধ্য হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘সীমান্তবর্তী পশ্চিমের জেলাগুলোয় রোগীর চাপ কমলেও পূর্ব ও মধ্যভাগের জেলাগুলোয় করোনা সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। রোগীর চাপ সামলাতে ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে প্রস্তুতকৃত ফিল্ড হাসপাতালটি আশা করছি রবিবারের মধ্যে চালু করতে পারব।’

মোয়াজ্জেম আলীর ভাই সোয়েব আলী বলেন, ‘শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, মুগদা হাসপাতাল ঘুরে একটা আইসিইউ পাইনি। পরে ঢাকা মেডিকেলে এসেছিলাম। ভাইকে অ্যাম্বুলেন্সে রেখে হাসপাতালে সিট খুঁজতে গিয়েছিলাম। সিটও পেলাম না, ফিরে এসে ভাইকেও আর জীবিত পেলাম না। হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতেই মারা গেলেন তিনি।’

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর