করোনায় আক্রান্ত হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন ছিলেন মা কানন প্রভা পাল (৬৭)। একই হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন তার ছেলে শিমুল পাল(৪৩)।
একপর্যায়ে ছেলের অবস্থারও অবনতি ঘটে, তারও আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু ছেলের জন্য সারা চট্টগ্রামের কোথাও মেলেনি আইসিইউ শয্যা। মুমূর্ষু অবস্থায় আইসিইউতে শুয়ে থাকা মায়ের কানে খবরটা যেতেই ছটফট করতে থাকেন মা। নিজের শয্যায় ছেলেকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের ইশারা করেন মা। চিকিৎসকরা বোঝানোর চেষ্টা করেও মাকে ওই অবস্থান থেকে সরাতে পারেননি। বাধ্য হয়ে মাকে নামিয়ে আইসিইউ বেডে তোলা হয় ছেলেকে।
আইসিইউ সরানোর ১ ঘণ্টার মাথায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মা। মায়ের জীবন ত্যাগের মধ্য দিয়ে আইসিইউ শয্যা মিললেও এখন ছেলের প্রাণও যায় যায়। তবে মুমুর্ষু অবস্থায় এখনো বেঁচে আছেন ছেলে।
জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রব মাসুম বলেন, আইসিইউ বেডে মৃত্যুশয্যায় থাকা মা জানতে পারেন ছেলের অবস্থা খুব খারাপ। তারও আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন। ছেলের প্রয়োজনে মা ইশারা দিয়ে চিকিৎসককে বলেন, তাকে বাদ দিয়ে ছেলেকে যেন আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া হয়। মায়ের কথায় আমাদের সায় ছিল না। তবে মায়ের জোরাজুরিতে পরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতামত নিয়ে মাকে আইসোলেশন সেন্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে ঘণ্টাখানেক পরই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে ছেলেটি আইসিইউ বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২৭ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুর ১টায় ছেলের জন্য চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা ছাড়েন কানন প্রভাপাল (৬৫) নামের ওই মা। তবে আইসিইউ পেলেও সংকটমুক্ত নন শিমুল পাল। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বার্তাবাজার/পি