বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। বাংলাদেশে এ রোগী শনাক্ত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে সরকার। সবাইকে বাসায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা আতঙ্কে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য, জনজীবন ও অর্থনীতি। এর ফলে বগুড়ার শেরপুরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ অর্থনীতির চাকা সচল থাকুক আর না থাকুক মাস শেষে দোকানের ভাড়া পরিশোধ করতেই হবে।
ব্যবসায়ীর আয় থাকুক আর না থাকুক মাস শেষে ভাড়া দিতেই হবে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে অন্যের ঘরে ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরা। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট লকডাউনে দোকানের ভাড়া না কমানোয় সমস্যায় পড়েছেন তারা। এই সকল ব্যবাসয়ীদের প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
শেরপুর পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এমনকি মার্কেট গুলোর কোন দোকানই খোলা নেই। লকডাউনের কারণে সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়নে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে লকডাউনে ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও কর্মচারী বেতন ও দোকানের ভাড়া ঠিকই প্রদান করতে হচ্ছে তাদের। করোনাকালে কঠোর লকডাউনে অনেকটাই সমস্যায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এই ব্যবসায়ীরা।
এ ব্যাপারে যমুনা ইলেক্ট্রনিক্সের শেরপুরের ডিলার মো. মানিক শেখ বলেন, অনেক কষ্টে আমি এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাড় করিয়েছি। মাস শেষে কর্মচারী বেতন, বিদ্যুত বিল ও ঘর ভাড়া বাবদ ৬৩ হাজার টাকা প্রদান করতে হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট লকডাউনে আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছি। কিন্তু ঘরের মালিকরা পুরো ভাড়াই নিচ্ছেন। আমাদের দোকান খোলা না থাকলে ব্যবসা বন্ধ থাকে। তাহলে মাস শেষে এতো টাকা কিভাবে প্রদান করবো। দোকান মালিকরা যদি ভাড়া কমিয়ে দিত তাহলে কষ্ট করে হলেও চলতে পারতাম। বিষয়টি বিবেচনার জন্য দোকান মালিক সহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ ব্যাপারে শেরশাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুঞ্জুরুল আলম মুঞ্জু বলেন, লকডাউনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় খুব কষ্টে আছি। মালিকরা যদি দোকানের ভাড়া না কমায় তাহলে অনেক সমস্যায় পড়ে যাব।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, আমরা গত বছর ২ মাস লকডাউনের সময় ১ মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু এ বছর এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
রাশেদুল হক/বার্তাবাজার/পি