ঢাকা জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা সাভার। এটি রাজধানী ঢাকা হতে প্রায় ২৪ কিলোমিটার উত্তরে (গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে সড়ক পথের দূরত্ব) অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম বড় শহর এবং ঢাকা মেগাসিটির অন্তর্ভুক্ত এলাকা। সাভার বাংলাদেশের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ উপজেলাগুলোর মধ্যে একটি। সর্বশেষ ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী এই উপজেলার লোক সংখ্যা ১৫ লক্ষাধিক। শিল্পায়নের কারণে বর্তমানে এই উপজেলায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাজের খোঁজে হাজারো মানুষ এখানে আসছে। এসব ভাসমান মানুষ মিলিয়ে সাভার এক বিশাল জনঅধ্যূষিত উপজেলায় পরিণত হয়েছে।
করোনা মহামারির পর থেকে সমগ্র সাভার উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। পরবর্তীতে দেশে করোনার টিকা আসে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভারত থেকে আসা ‘কোভিশিল্ড’ এর ১ম ও ২য় ডোজ মিলিয়ে ৯৪ হাজার ভ্যাক্সিন প্রদান করে। পরে এই টিকা শেষ হয়ে গেলে চীনের ভ্যাক্সিন ‘সিনোফার্ম’ আসে দেশে। বর্তমানে সাভারে করোনার টিকা গ্রহণ করতে ৯৬ হাজার রেজিষ্ট্রেশন (নিবন্ধন) সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সাভারে মাত্র একটি জায়গায় (অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়) টিকা প্রদান করায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা নিবন্ধন সম্পন্ন করা মানুষ বিড়ম্বনায় পড়ছেন। কারণ প্রতিদিন সর্বোচ্চ চারশো’ মানুষ টিকা গ্রহণ করতে পারছেন। এই হারে চললে নিবন্ধন করা ৯৬ হাজার মানুষের টিকা গ্রহণ শেষ হতে অনেক সময় লাগবে। পাশাপাশি যারা প্রতিদিন নিবন্ধন করছেন তাদের এই সিরিয়ালে এসে টিকা গ্রহণ করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
ভাকুর্তার শলমাসি থেকে আসা আব্দুল ওহাব জানান, প্রায় তিনশো টাকা খরচ করে টিকা দিতে এসেছি। এখানেও দীর্ঘ লাইন, অনেক অপেক্ষা করে সিরিয়াল পেয়েছি। যদি ইউনিয়ন ভিত্তিক এই টিকা প্রদান করা হতো, তাহলে আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হতো।
শিমুলিয়ার নৈহাটি থেকে টিকা নিতে এসেছেন রাবেয়া বেগম। তিনি জানান, এত দূর থেকে সাভারে টিকা নিতে আসতে হয়েছে। এই লকডাউনের ভিতরে দুই-তিনগুণ ভাড়া দিয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে এখানে এসেছি। কারণ ম্যাসেজ এসেছে আজ টিকা নিতে হবে, তাই লকডাউনের ভিতরেও এভাবে আসতে হয়েছে। যদি নিজের ইউনিয়নে এই টিকা গ্রহণ করার কোনো ব্যবস্থা থাকতো তবে আমরা যারা গ্রামে থাকি, আমাদের অনেক সুবিধা হতো।
এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা জানান, টিকা আসার পরে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই টিকা প্রদান কার্যক্রম চলছিলো। সেখানে কোভিড ও নন-কোভিড ব্যাক্তিদের সহাবস্থানে আক্রান্তের ঝুঁকির দিকটি বিবেচনা করেই আমরা সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে এই টিকা প্রদান কার্যক্রম সরিয়ে এনেছি। এখানে দুইটি আলাদা বুথে নারী এবং পুরুষদের টিকা প্রদান করা হচ্ছে। সাভার একটি বড় উপজেলা। এর বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মানুষকে টিকা নিতে এখানে আসতে হচ্ছে। এই লকডাউনের ভিতরে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসতে যদিও অনেকের কষ্ট হচ্ছে; কিন্তু এক্ষেত্রে আপাতত আমাদের করণীয় কিছু নেই। তবে বিষয়টি আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা.আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী আশুলিয়ার শিমুলিয়ার কোরিয়া-মৈত্রী হাসপাতালে আরও দুইটি বুথ স্থাপনের কাজ চলছে।
তবে সাভার উপজেলায় ইউনিয়ন ভিত্তিক না হলেও বারটি ইউনিয়নকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে করোনার ভ্যাক্সিন প্রদানের বুথ তৈরী করতে পারলে ভ্যাক্সিন গ্রহণে আরও সাড়া পাওয়া যাবে বলে অভিমত সর্বসাধারণের।
বার্তাবাজার/পি