নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব লাল মিয়া:ভাঙ্গনের ভয়ে দিন কাটাচ্ছে ১১ পরিবার
ঈদের আনন্দ জোটেনি লাল মিয়ার(৬৫) ভাগ্যে। সর্বনাশা তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে ঈদের দিনেই বাস্তুহারা হন লাল মিয়া। ঈদের দিন সবাই যখন কোরবানি নিয়ে ব্যস্ত তখন লাল মিয়া তার শেষ সম্বল টুকু বাঁচাতে ব্যস্ত।
গত ২১ জুলাই ঈদুল আজহার দিন তিস্তা নদীর ভাঙ্গন কেড়ে নেয় লাল মিয়ার মাথা গোঁজার ঠাঁই। সেই সাথে ভাসিয়ে নিয়ে যায় সর্বস্ব। তাই ঈদের দিন খুশির বদলে কান্নায় বুক ভাসান লাল মিয়া ও তার স্ত্রী সন্তানেরা।
লাল মিয়া লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ বালাপাড়ার বাসিন্দা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,এলাকাটির চতুর্দিকে তিস্তার পানি। যাতায়াতের জন্য বাঁশ গেড়ে একটি বাঁশের রাস্তা রাস্তা তৈরি করা হলেও তা খুবই নড়বড়ে।ভাঙ্গনে লাল মিয়ার বসতভিটে ভেঙ্গে যাওয়ার পর এখন ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে অন্য পরিবারগুলো।
নদীভাঙ্গনে নিঃস্ব লাল মিয়া কান্না জড়িত কন্ঠে আক্ষেপ করে বলেন,”প্রতিবার বন্যার পর নদী ভাঙ্গনে বাস্তুহারা হতে হয় আমাদের। ঈদের দিন আমার সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে তিস্তা নদী।এখন কই থাকবো,কি খাবো কিছু বুঝতে পারছি না।কেউ কোন রকম খোঁজখবর ও নেয় না,সহযোগিতাও করেনা।”
এদিকে ভাঙ্গনের আশঙ্কায় ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন ওই এলাকার ১১ টি পরিবার। দু-এক দিনের মধ্যে ভাঙ্গতে পারে সেগুলোও। জিও ব্যাগ ফেলানোর প্রকৃয়া চলমান থাকলেও সেই প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নয় এলাকাবাসী।
ওই এলাকার মোর্শেদা বেগম(৩৫) বলেন,আজ কাল এর মধ্যে আমাদের বাড়িও ভাঙতে পারে।আমাদের চারদিকে পানি।যাতায়াত করতেও পারিনা।প্রতি বছর এই ভাবে বাড়ি ভাঙ্গে তারপরেও কেউ কোন সহযোগিতা করেনা।
মহিষখোঁচা ইউনিয়ন এর ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ এলাকাবাসীর অভিযোগ স্বীকার করে বলেন,”আমি একাধিকবার জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনে তালিকা দিয়ে সহযোগিতা চাইলেও কোন সহযোগিতা করা হয়নি। তাই আমিও কিছু দিতে পারিনি। তবে জিও ব্যাগ গুলো অতিদ্রুত ফেলানোর ব্যবস্থা করছি।”
মহিষখোঁচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন ও ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ এর কথাই পূণরায় বলেন। তিনি জানান,একাধিকবার তালিকা দিয়েও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত,নদী ভাঙ্গনের শিকার বা পানি বন্দী পরিবারগুলোর জন্য কোন সহযোগিতা পাওয়া যায় নি জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন থেকে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন জানান,ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সম্পূর্ণ ভুল তথ্য দিয়েছে এবং মিথ্যা বলেছে।আমরা এর আগে একটি তালিকা পেয়ে সে অনুযায়ী চাল ও নগদ অর্থ সহযোগিতা করেছি। আর বর্তমানে ভাঙ্গনের শিকার বা পানিবন্দি কোন পরিবার থাকলেও সে বিষয়ে চেয়ারম্যান বা ইউপি সদস্য কিছু জানায়নি। তথ্য পাওয়া গেলে সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের অভিযোগকে মিথ্যা দাবী করে জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান,”ওই ইউনিয়ন থেকে কোন সহযোগিতার আবেদন বা তালিকা পাইনি।পেলে অবশ্যই সহযোগিতা করা হতো।জেলা প্রশাসন থেকে উপজেলায় যথেষ্ট বরাদ্দ দেয়া আছে।”
প্রদীপ কুমার আচার্য্য/বার্তা বাজার/টি