চালু হচ্ছে আধুনিক খাদ্য সংরক্ষনাগার
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে চলতি বছরেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চালু হচ্ছে ১লক্ষ ৫ হাজার মেট্রিকটন ক্ষমতার আধুনিক সাইলো। ইতিমধ্যে প্রকল্পটির ৭২ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আধুনিক এ খাদ্য সংরক্ষনাগারে দীর্ঘদিন খাদ্য শস্য মজুদ করে রাখা যাবে।
যে কোন দূর্যোগে সমস্যা হবে না। যা বর্তমানে সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশে পূর্বাঞ্চলের উৎপাদিত চাউল সংগ্রহ করে খুব সহজেই সংরক্ষন করা যাবে। প্রয়োজনে ভারতের ত্রিপুরাসহ ৭টি রাজ্যে সহজেই চাউল আমদানী অথবা রফতানী করা যাবে।
দেশের পূর্বাঞ্চলীয় ধানের এবং চালের সবচেয়ে বড় বাজার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ। দেশের হাওরঞ্চলের উৎপাদিত সব ধানই কৃষক ও পাইকাররা নিয়ে আসে আশুগঞ্জ হাটে। প্রতিদিন অন্তত অর্ধলক্ষাধিক মণ ধান আসে এই হাটে। এসব ধান আড়ৎদারদের মাধ্যমে স্থানীয় ভাবে গড়ে উঠা ৪শতাধিক চাতালকলে বিক্রি হয়। মিল মালিকরা চাতালে পক্রিয়াজাত করে ধান থেকে চাউলে রুপান্তরিত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাউলের সরবরাহ করে থাকে।
ধান এবং চাউলের বড় মোকাম (বড় বাজার) গড়ে উঠায় এ জন্য প্রতিবছর সরকারের ধান ও চাল সংগহের বড় একটি অংশ আশুগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করে থাকে। তাই বেশি দিন চাউলের গুণগত ও পুষ্টিমান বজায় রাখার লক্ষ্যে আশুগঞ্জের মেঘনা নদীর তীরে আধুনিক খাদ্য সংরক্ষনাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।
২০১৮ সালে এপ্রিলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৫শ ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হয় র্নিমান। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন ও ইটালীয়ান কোম্পানী ফ্রেমী এজিআই। ২০২০ সালের এপ্রিলে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় দু-দফায় সময় বাড়িয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে ঠিদাকারী প্রতিষ্ঠানকে শেষ করতে সময় দিয়েছে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।
আশুগঞ্জ আধুনিক খাদ্য সংরক্ষনাগার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রেজাউল করীম শেখ জানান, আশুগঞ্জ ছাড়াও দেশে আরো ৭টি আধুনিক সাইলো নির্মান করছে সরকার। এরমধ্যে চাউলের জন্য ৬টি ও গমের ২টি নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে আশুগঞ্জেরটি হবে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ও দেশের সবচেয়ে বড় চাউলের সংরক্ষনাগার।
সন্তোষ চন্দ্র সূত্রধর/বার্তা বাজার/টি