চট্টগ্রামে ক্রমবর্ধমান করোনা রোগীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পাঁচ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাথে আলোচনা করবে স্বাস্থ্য বিভাগ। সোমবার (২৬ জুলাই) বিকালে পাঁচ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রধানদের নিয়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হবে।
পাঁচ হাসপাতাল হলো, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সাউর্দান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ও জেলা কোভিড-১৯ প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘সব হাসপাতালেই এখন রোগীতে ভরা। যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে রোগীদের চিকিৎসার্থে বাড়তি শয্যা ও সুযোগ সুবিধা প্রয়োজন। যা চট্টগ্রামের পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। এসব হাসপাতালে যদি কিছু রোগী ভর্তি করানো যায়, তাহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে।’
এর আগে, গত ১৪ জুলাই (বুধবার) চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ হাসান শাহরিয়ার কবীর চট্টগ্রামের ৫ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোকে কোভিড ডেডিকেটেড শয্যা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠান এবং ১৫ জুলাই চট্টগ্রাম মেরিন সিটি হাসপাতালেরে করোনারোগীদেরচিকিৎসাসম্ভাবনাযাচাইয়ে পরিদর্শনে যান চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোঃ মমিনুর রহমান ও জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ ফজলে রাব্বি।
মেরিন সিটি হাসপাতাল সম্পর্কে ডাঃ শেখ ফজলে রাব্বি জানান, মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেনসহ আড়াইশ’ শয্যা রয়েছে। আগে থেকেই হাসপাতালটিতে তিনটি আইসিইউ শয্যাসহ রয়েছে এইচডিইউ সুবিধাও। যদিও বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৪০ শয্যা কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবস্থা রয়েছে।
রয়েছে ৬ শয্যার আইসিইউ এবং ১২ শয্যার এইচডিইউ সুবিধা। তবে সংকটময় পরিস্থিতিতে তা খুবই অপ্রতুল। এমতাবস্থায় পুরো হাসপাতালটিকে কোভিড ডেডিকেটেড করা হলে এ সংকটময় পরিস্থিতিতে বড় সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে মত স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ ফজলে রাব্বি আরো বলেন, ‘পরিদর্শনে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে ৷ বর্তমানে তাদের ৬টি আইসিইউ থাকলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে তা ১২টি করার জন্য বলা হয়েছে। একই সাথে ১২টি এইচডিইউ এর স্থলে ২৪টি করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ শয্যাও আরো বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে যদি কোন চাহিদা থাকে, তাও আগামী শনিবারের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। আমরা তাদের এ বিষয়ে সহযোগিতা করবো।’
ইতোমধ্যে এই হাসপাতালে আইসিউ, এইচডিউ সহ সাধারণ শয্যা দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান ডাঃ শেখ ফজলে রাব্বি।
মুহাম্মদ হুমায়ুন চৌধুরী/বার্তা বাজার/টি