আ’লীগের এমপি শিমুলের বাবা রাজাকার ছিলেন!

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের বাবা রাজাকার ছিলেন বলে দাবি করেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ ডলার।

শনিবার (২৪ জুলাই) ইশতিয়াকের বাবাকে রাজাকার বলে অভিহিত করায় রোববার (২৫ জুলাই) শহরের একটি কমিউনিট সেন্টারে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সম্মেলনে ইশতিয়াক আহমেদ ডলার চ্যালেঞ্জ করে বলেন, আমার বাবা সম্পর্কে যা বলেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার বাবা রাজাকার ছিলেন তা প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। আমার বাবা রাজাকার হলে তো ডিসি অফিসে তালিকা থাকতো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক সুজিত সরকারের “নাটোর জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধ” বইয়ের ৬০০ নম্বর পাতায় ২১ নম্বর তালিকায় এমপি শিমুলের বাবা হাসান আলী সরদারের নাম রয়েছে।

তিনি বলেন, আমার ও আমার বাবার বিরুদ্ধে যে নোংরা ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। আজ রোববার বিকেলেই নাটোর সদর থানায় মামলা করব।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আযম স্বপন।

তিনি বলেন, শনিবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নাটোর জেলার নব গঠিত কমিটির বিরুদ্ধে যে সংবাদ সম্মেলন করেছে তা মিথ্যা বানোয়াট, ভিত্তিহীন তথ্য সম্বলিত ও ষড়যন্ত্রমূলক। জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটিতে তার ১১ জন আত্মীয়কে পদ দেওয়া হয়েছে। এতে করে নাটোরের রাজনীতি তাদের পরিবারের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ায় গতি হারিয়ে ফেলেছে। এ কারণে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক কমিটি দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও নতুন কমিটি করতে ব্যর্থ হয়।

তিনি জানান, করোনার সময়ে নিজ তহবিল থেকে ত্রাণ বিতরণের কথা বললেও এমপি শিমুল ছয় কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেছেন এবং মাত্র ৭০ লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণ করেছেন। বাকি টাকা এমপি কানাডায় পাঠিয়েছেন। এমপি শিমুল প্রাণ কোম্পানি থেকে ৪০ লাখ টাকা, কিশোয়ান থেকে সাড়ে নয় লাখ টাকা, ঠিকাদার সমিতি থেকে ২২ লাখ টাকা, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতি থেকে সাড়ে ১১ লাখ টাকাসহ আরও অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।

তবে এসব দাবির প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল জানান, আমার বাবা রাজাকার ছিলেন এ তথ্য সঠিক নয়। যে বইয়ে বাবার নাম লেখা হয়েছে সেই লেখকের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। সাবেক এমপি আহাদ আলী সরকার ও নাটোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান মিলে লেখককে টাকা-পয়সা দিয়ে বাবার নাম লিখিয়ে নিয়েছেন। তাছাড়া ওই বইয়ে সবার নাম-ঠিকানা বড় অক্ষরে থাকলেও আমার বাবার ঠিকানা ছোট অক্ষরে লেখা। এতেই প্রমাণ হয় ওটা বানোয়াট।

এদিকে এমপি শিমুলের দাবি করা লেখকের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক এমপি আহাদ আলী সরকার বলেন, আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যিনি লিখেছেন তিনি একজন স্বনামধন্য শিক্ষক। যা লিখেছেন তা তিনি গবেষণা করেই লিখেছেন।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর