সহকারী শিক্ষিকার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা প্রধান শিক্ষক
আপত্তিকর অবস্থায় এই মাসে শিক্ষক-শিক্ষিকারা যেন হ্যাটট্রিক করবেন। একের পর এক ধর্ষণ, হোটেল, বিনোদনের নামে নোংরামিতে পুলিশ, জনগণ, আইনের বিভিন্ন প্রশাসনের কাছে ধরা পড়ছে মহান পেশার “জাতি গঠণের কারখানা” খ্যাত শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৪৪নং তারাবুনিয়া মাঝীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাহারুলের বিরুদ্ধে একই উপজেলার এক সহকারী শিক্ষিকাকে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্থায়ী সমাধান চেয়ে সখিপুর থানায় একটি অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষিকা।
স্থানীয়রা জানায়, এই দুই শিক্ষককে বারবার আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তবু তারা থামছেন না। অনৈতিক র্কমকাণ্ডের জন্য এর আগে কয়েকবার তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। কিন্তু প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ ও টাকার জোরে প্রতিবার পার পেয়ে যান তারা। এমনকি এ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও লাভ হয়নি। উল্টো অভিযোগকারীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হবে বলে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,২০০৫ সালে ৪৪নং মাঝীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আজহারুল ইসলাম। এর চার বছর পর সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন খাদিজা এরপর থেকে সহকারী শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সর্ম্পকে জড়িয়ে পড়েন শিক্ষক আজহারুল ইসলাম।
উপজেলার ৮০নং চরসেনসাস মাঝের চর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ৩১মে ২০০৯ সাল থেকে ৩০মার্চ ২০১৩ সাল পযর্ন্ত ৪৪নং মাঝীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করেন এবং চাকরির সুবাদে স্কুলের পাশেই চরসেনসাস এলাকায় এক ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে তাদের মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্ক হওয়ার পর শিক্ষিকার স্বামী বাসায় না থাকলে তার বাসায় যেতেন আজহারুল। শিক্ষিকার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্কও করেছেন আজহারুল। বিষয়টি শিক্ষিকার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যেনে যায় এবং ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ আজহারুল স্বামীকে তালাক দেয়া শর্তে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে স্বামীকে তালাক দেন ওই শিক্ষকা। কিন্তু আজহারুল তাকে বিয়ে করবে বলে সময় নিয়ে তালবাহানা করছেন। তাই গতকাল ২৩ এপ্রিল শুক্রবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে তার আগের স্ত্রী সন্তান শশুর বাড়ী বেড়াতে গেলে তাকে বিয়ে করবে বলে তার নিজ বাসায় ডেকে নেয়া হলে রাত এগারটা সময় অনৈতিক কাজে লিপ্ত হলে স্থানীয়রা দেখে ফেলেন। পরে তাদের অবরুদ্ধ করা হলে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে মুক্ত হন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল সখিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন শিক্ষিকা।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক চরসেনসাস এলাকার কয়েকজন জানান, প্রধান শিক্ষক আজহারুল ও শিক্ষিকার মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। আজ রাত সাড়ে দশটার দিকে শিক্ষকের বাসায় তাদের আপত্তিকর অবস্থায় ধরা হয়। সহকারী শিক্ষিকার এক ছেলে, এবং প্রধান শিক্ষকের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) মেম্বার কালন মিয়া বলেন,আজহারুল মাস্টারের বউ বাড়ীতে না থাকায় খাদিজা মেডামকে ঘরে নিয়ে এসে রাতে এলাকা বাসির কাছে ধরা খাইছে। শুনেছি কাবিন করানোর জন্য তারা কাজীও নিয়ে আসছিল।
এ বিষয় প্রধান শিক্ষক আজহারুলের স্ত্রী আয়েশা আক্তার জানান, আমার স্বামীকে আমি আগে অনেক বার বলেছি যে এ মহিলার কাছ থেকে দুরে থাকতে। কিছুতেই শুনেনি আমার কথা। গতকাল বৃহস্পতিবার আমি আমার বাবার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম, পুরো বাড়ি ঘর ফাকা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে খাদিজা আমার ঘরে আসে। পরে প্রতিবেশীরা আমাকে খবর দিলে আমি তাতক্ষণিক চলে আসি। আমার বলার কোন ভাষা নেই।
১১৪ নং প্রগতি বিদ্যা নিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন বলেন, প্রধান শিক্ষকের নারী কেলেঙ্কারির বিষয়টি এলাকার সবাই অবগত। গত ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি ৮০নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চিনু বেগমের সাথে বিদ্যালয়ের কক্ষে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হলে স্থানীয়রা দেখে ফেলেন। পরে তাদের অবরুদ্ধ করলে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও সখিপুর থানার ওসি দুই লাখ টাকা জরিমানা করে আজহারুলকে এবং চিনু বেগমকে মানিকগঞ্জ জেলায় বদলি করানো হয়।
ওই শিক্ষিকা বলেন, আজহারুলের জন্য স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে ঝগড়া করেছি। তার কারণে স্বামীকে তালাক দিয়েছি। তিনি বিয়ে করবেন বলে সময় নিয়ে এখন তালবাহানা করছেন। গতকাল রাতে আমাকে বিয়ে করবে বলে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে আমার সঙ্গে রাত কাটাইছে এখন আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই এর সমাধান চেয়ে সখিপুর থানায় একটি অভিযোগ করেছি।
এদিকে প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলামের মোবাইলে একাদিক বার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি
ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুলতানা রাজিয়া বলেন,এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আজহারুলের মোবাইলে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তোফায়েলসহ তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেবেন। অভিযোগের সত্যতা পেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন,খাদিজা নামের এক শিক্ষিকা একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্তা গ্রহন করা হবে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার তানভীর আল নাসীফ বলেন,ওশিক্ষিকা আমার কাছে ফোন দিয়েছিল। আমি বিষয়টি যেনেছি। শুনেছি ওনি সখিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আসাদ গাজী/বার্তাবাজার/পি