ঝুঁকি থাকায় ১৫ মার্চ থেকে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোলার নদীগুলোতে স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ। কিন্তু ওই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে স্পিডবোট চলাচল করছে। জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এতে এই নৌপথে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় যাত্রীদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার(২৪ জুলাই) ভোলার সদর উপজেলার ইলিশা সাহজল বেপারীর ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটের সামনে জংশনবাজারে গাড়ি থেকে যাত্রী নামলেই নানাভাবে বিভিন্ন কৌশল দেখেয়ে তাঁদের স্পিডবোটে ওঠার আহ্বান জানাচ্ছেন স্পিডবোটেরর নেতা আঃ রশিদ। যাত্রীরাও দ্রুত নদী পার হওয়ার জন্য স্পিডবোটের ঘাটের দিকে ছুটে যায়।
শনিবার(২৪ জুলাই) বেলা ১১টায় ইলিশা ঘাটে কলমিলতা নামের ফেরিতে যাত্রী ও গাড়ি ওঠানো হচ্ছিল। বেলা সাড়ে ১১টায় ফেরিটি ছেড়ে যায়। কিন্তু ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা দৌড়াচ্ছেন স্পিডবোট ও ট্রলারের দিকে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্র জানায়, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর ভোলার নদীগুলো বিপজ্জনক অঞ্চলের আওতায় রয়েছে
অন্যদিকে মহামারী করোনাকালীন ফেরি ছাড়া সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ থাকার পরেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে চলাচল করে এই অবৈধ স্পিডবোট গুলো
স্থানীয় লোকজন জানান, ভোরেই এসব অবৈধ নৌযান চলা শুরু হয়। ভোলার ইলিশা সাহজল বেপারীর ও রাজাপুর ইউনিয়ন জোর খাল থেকে লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীরহাট ঘাটের উদ্দেশে কমপক্ষে ২০টি স্পিডবোট ছেড়ে গেছে। এসব নৌযান চলাচল বন্ধে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, ফেরি ঘাটের পশ্চিমে চডারমাথা মাছঘাটের সামনে থেকে ও সাহজল বেপারীর ঘাট থেকে স্পিডবোট ছেড়ে যাচ্ছে লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীরহাট ফেরিঘাটের উদ্দেশে। একটি স্পিডবোটে ১০-১২ জন যাত্রী ওঠানো হচ্ছে। এসব স্পিডবোটে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এসব স্পিডবোট নিয়ন্ত্রণ করছেন আঃ রশিদ।
আঃ রশিদ স্পিডবোট নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কাউকে নিয়ন্ত্রণ করছেন না, যে যাঁর মতো ডেঞ্জার জোন উপেক্ষা করে স্পিডবোট চালাচ্ছেন।
ফেরির ইজারাদার আক্তার হোসেন বলেন, তাঁরা ফেরিতে ভাড়া নেন ৭০ টাকা। আর অবৈধ স্পিডবোট-ট্রলারে ভাড়া নেন ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এসব অবৈধ যানের মাঝিরা যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ফেরিতে উঠতে বাধা দিচ্ছেন। তবে মহামারি করোনার জন্য ফেরিতে আমরা লোক উঠানো বন্ধ রেখেছি।
তিনি আরও বলেন, ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে নৌ থানা ও পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থাকার পরও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব অবৈধ নৌযান যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে।
বার্তাবাজার/পি