পাটের জাগ নিয়ে আ’লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের খাল পাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়ে শহীদ ফকির (৪৭) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালিত ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। শহীদ ফকির পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ফকির পাড়া গ্রামের রাজ্জাক ফকিরের ছেলে। সে দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা।

নিহত শহীদ ফকির পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি মাসুদ শেখের সমর্থক বলে জানা গেছে।

নিহত শহীদ ফকিরের খালাতো ভাই মান্নান ফকির বলেন, শুক্রবার সকালে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের খাল পাড়া এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের রামদায়ের কোপে মারাত্মত ভাবে আহত হন শহীদ। তাকে দ্রুত ফরিদপুর ট্রমা সেন্টোরে এনে ভর্তি করা হয়। এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭ দিকে মারা যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের অর্থপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অনাদি রঞ্জন মন্ডল বলেন, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শহীদ ফকিরের পায়ের হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিল। এছাড়া তার পেটেও ধারাল অস্ত্রের আঘাত ছিল। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু ঢাকা নেওয়ার প্রস্তুতির আগেই তিনি ফরিদপুর ট্রমা সেন্টারে মারা যান।

প্রসঙ্গত, এক সপ্তাহ আগে উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহসভাপতি মাসুদ শেখের সমর্থক মনিরুল ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পাদক বিষয়ক সম্পাদক আ. মান্নান মাতুব্বরের সমর্থক নজরুল মোল্যা স্থানীয় কুমার নদে পাশাপাশি পাট পঁচানোর জন্য জাগ দেয়। কয়েকদিন পরে মনিরুলের পাটের জাগ হারিয়ে গেলে সে নজরুল মোল্যার বাড়ি গিয়ে পাটের জাগের ব্যাপারে জানতে চায়। এ সময় নজরুল মনিরুলকে বলে আমার পাট উঠিয়ে নিয়ে এসেছে; তোমারটা কোথায় গেছে তা জানিনা। ওই সময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

এ ঘটনা ও কোরবানীর মাংস কিভাবে ভাগাভাগি হবে এ নিয়ে ময়েনদিয়া ও পরশ্বেরদী গ্রামে ঈদের আগেরদিন দুই গ্রুপের বিভিন্ন সময় গোপনে মিটিং চলছিলো। এ ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সাড়ে ৯ টার দিকে দুই গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ঢাল, সড়কি, রামদা ও লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের সময় পাশের সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের কিছু লোকজন মাসুদের লোকজনের সাথে পক্ষ দেয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের লোকজনের বাড়িঘর, দোকান ভাংচুর ও লুটপাট হয় বলে জানা যায়। এতে উভয় পক্ষের ২৫-৩০টি বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে ৬ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের ৪০-৫০জন আহত হয়েছে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে আটজনকে আটক করে থানা পুলিশ।

মিয়া রাকিবুল/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর