কোরবানির মাংস ভাগাভাগি নিয়ে দুই মেম্বার গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০

মাদারীপুরের রাজৈরে কোরবানির গোস্ত ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও সাবেক দুই মেম্বারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণদী পান্তাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কবিরাজপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার কাঞ্চন মাতুব্বরের সাথে একই এলাকার হানিফ মাতুব্বরের ৪ বছর যাবত জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এ বিষয়ে ৬ মাস আগে আদালতে একটি মামলা করেন হানিফের মা জাহানারা বেগম। এরই জেরে বুধবার বিকেলে কোরবানির গোস্ত প্রদানের জন্য মসজিদ কমিটির করা তালিকা থেকে হানিফের বড় ভাইয়ের নাম কেটে দেয়া হয়।

পরে তার ভাইয়ের ভাগের গোস্ত না পাওয়ায় মেম্বার কাঞ্চনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মেম্বারের ভাই মাসুদ মাতুব্বরসহ তার লোকজন হানিফের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এবং তার পরিবারের সকলকে ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখে।

এনিয়ে বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) সকালে সাবেক মেম্বার কিনাই মাতুব্বর ও বর্তমান মেম্বার কাঞ্চন মাতুব্বরের লোকজন দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে সাগর মাতুব্বর(১৮), রবিউল মাতুব্বর(৪৫), আলামিন মাতুব্বর(২২), আজিজুল মাতুব্বর(২৬), সাইদুল মাতুব্বর(২৮), আকাশ মাতুব্বর(২৮), মনু বেপাড়ি(৭০), ফরিদা বেগমকে(৬৫) রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া বাকি আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার গোপালগঞ্জ ও আমবাগ দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহতদের রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হানিফ মাতুব্বর জানান, আমি কোরবানি দিয়ে তিন ভাগের এক ভাগ গোস্ত গরীব অসহায়দের জন্য মসজিদে দিয়েছি। সেখান থেকে যারা কোরবানি দেয় নাই তাদের সকলকে গোস্ত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমার বড় ভাইয়ের নাম মসজিদের তালিকা থেকে কেটে দেয় কাঞ্চন মেম্বার। এনিয়ে তার সাথে তর্কবিতর্ক করায় আমাদের মারধর করে। একই সাথে বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে একটি ক্যামেরা ও ঈজি বাইকের ৫টি ব্যাটারি লুট করে নিয়ে গেছে। সকালে আবার আমার ছোট ভাই বাজারে যাওয়ার সময় ওর উপর হামলা চালায়। এসময় আমরা ফিরাতে আসলে আমাদেরও মারধর করেছে। তাদের ভয়ে আমি ঘরে জেতে পারছি না। এমনকি আমার পরিবারের কেউ বের হলেই মারধর করবে বলে হুমকি দিয়ে ঘরে বন্দি করে রেখেছে।

মেম্বার কাঞ্চন মাতুব্বর জানান, তারা কোন বছর কোরবানি দেয় না, এই বছর দেছে, তাই তাদের পরিবারের নামটি কাটা হইছিল। কিন্তু হানিফ দাবি করে সে একা কোরবানি দেছে। পরে তাকে বুঝিয়ে তার বড় ভাইয়ের ভাগ দিয়ে দিছি। তারপরও হঠাৎ কিনাই মাতুব্বর তার লোকজন নিয়ে এসে আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে।

রাজৈর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, দুইটি সংঘর্ষের ঘটনার মধ্যে কোনটাই মামলা হয় নাই। আমরা অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেবো। তবে বদরপাশার ঘটনা মিমাংশার জন্য সালিশের তারিখ দেওয়া হয়েছে।

আকাশ আহমেদ সোহেল/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর