মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি গাংনী উপজেলার এসিল্যান্ড বলছি, আপনার হোটেলে আজকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এবং সেই সাথে ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হতে পারে অতএব এই জরিমানা থেকে যদি মুক্তি পেতে চান তাহলে নগদ ৩০ হাজার বা ৫০ হাজার টাকা ১৫ মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থা করুন। আমি যে ভাবে বলবো ঠিক সেই ভাবে টাকা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবেন। যদি এই কথা কাউকে জানান তবে আমি এই মুহূর্তে গাড়ি নিয়ে আপনার হোটেলে অভিমুখে রওনা হব’। এই কথার কৌশলে ঈদুল আযহার এক সপ্তাহ আগে থেকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতারক চক্র তার ব্যবহৃত এই ০১৬১০-৪৭২৯৩৪ নাম্বারে প্রতারণা করে আসছেন।
গত শুক্রবার (১৬ জুলাই) দুপুরে গাংনী উপজেলার বামুন্দী বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী হানিফ হোটেলের স্বত্বাধিকারী মো: হানিফকে এই কথা জানান প্রতারক চক্র। তার কয়েকদিন পর উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের আজিজুল মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী আজিজুলকেও একইভাবে ফোন করে প্রতারণা করার চেষ্টা চালায়। তবে আজিজুল প্রতারকের চক্রে জড়িয়ে না গেলেও হোটেল ব্যবসায়ী হানিফের কাছ থেকে এক মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।
তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের আজিজুল জানায়, আমাকে একইভাবে ফোন দিয়ে বলে আমি গাংনী উপজেলার এসিল্যান্ড বলছি, তবে আমি টাকা দিতে রাজি না হলে শেষমেষ আমাকে অনেক গালিগালাজ করে। তখন আমি বিষয়টি গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানমকে জানাই।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজমুল আলম তিনি জানান, আমি সবে মাত্র ১৪-০৭/২০২১ ইং তারিখে গাংনী উপজেলায় যোগদান করেছি। এই মোবাইল ফোনের নাম্বারটি কার আমার জানা নেই। হয়তো কোনো প্রতারক চক্র আমার নাম ভাঙ্গিয়ে এই অপকর্ম চালাচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
গাংনী উপজেলা নির্বাহি অফিসার মৌসুমী খানম তিনি বলেন, কোনো প্রতারক চক্র গাংনী উপজেলা প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে যদি এই ধরনের অপকর্ম করে তা কখনোই বরদাস্ত করা হবে না। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল আলম তিনি একজন ভালো মানুষ, তিনি এই ধরনের কাজ করতেই পারেনা তবে কারা এই ধরনের অপকর্ম চালাচ্ছে আমরা খোঁজ নেব।
তিনি সকল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মালিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যদি কোন মোবাইল ফোনের নাম্বারে থেকে উপজেলা প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে এই ধরনের চাঁদা দাবি করা হয় তাৎক্ষণিক এই মোবাইল নম্বরে জানাবেন ০১৭০৮-৪১০০২১।
মাসুদ রানা/বার্তা বাজার/এসজে