ঈদের দিনে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক এর উপরে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঈদের দিন (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া কলেজ মোড়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক ঈদের দিন রাতে নিজ সংগঠনের কর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে বাড়িতে ফেরার পথে তাকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুলি করার পরও যখন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিককে হত্যা করতে ব্যর্থ হয় তখন পিস্তলের বাট দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং বেস-ব্যাট দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে পেটাতে থাকে। এ সময় অনিকের সাথে থাকা ছাত্রলীগকর্মী রক্তিম ঘোষের উপরও অমানবিকভাবে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

একসময় আতিকুর রহমান অনিক মাটিতে পড়ে গেলে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয় ব্যক্তি এবং ছাত্রলীগ কর্মীরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ১৯৭৪ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ঈদের নামাজে সিজদারত অবস্থায় গুলি করে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর গোলাম কিবরিয়া এমপিকে। ওই বছরেই কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খাঁনকে মথুরাপুর হাটের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের সামনে বিকেল বেলায় গুলি করে হত্যা করে। রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাবস্থায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবারে গুলি করে হত্যা করে। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলেই কি এই সংগঠনের নেতা কর্মীরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে?

তিনি আরও বলেন, কুষ্টিয়ায় ঈদের দিনে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিককে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালায়। গুলি লক্ষ্যভেদ না হলে তার মাথায় এলোপাথাড়ি হামলা করে। সিসিফুটেজে দেখা যায়, এক সময় বিএনপির চিহ্নিত ক্যাডার বাহিনী এখন ছাত্রলীগে প্রবেশ করে এই হামলা চালায়। ক’দিন আগে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাসেবকদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তাদেরও মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করে। সেলাই লেগেছে অনেকগুলো। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনিকেরও মাথায় আক্রমন। সেলাই পড়েছে ৪টি। হামলার লক্ষ্যবস্তু এক ও অভিন্ন। তাহলে ঐ হামলাকারীদের সাথে এই হাসলাকারীদের যোগসূত্র রয়েছে? বিএনপি জামায়াত পরিবারের সন্তানদের ছাত্রলীগ থেকে বের করে না দিলে এমন গুপ্ত ও প্রকাশ্য হামলা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ধারণা করেন। তাই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলার সাথে থাকা জড়িতদের কে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফেজ চ্যালেঞ্জ এর সাথে কথা বলে তিনি জানান, এ হামলা কোনো সাধারন হামলা নয়। দুর্বৃত্তরা ছাত্রলীগকে নির্মূল করতেই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিক রহমান অনিককে মেরে ফেলে দেয়ার জন্য এ হামলা করেছিল। তাই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলনে যাওয়া হবে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সাবিরুল ইসলাম জানান এ বিষয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফজলুল করিম টুটুল/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর