লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৮ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মো.মাহফুজার রহমান (১৯) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এতে ওই স্কুলছাত্রী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বলে জানা গেছে। গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয় প্রকাশ করলে হামলা শিকার হয় ওই ছাত্রীর পরিবার।
সোমবার (১৯ জুলাই) রাতে এ ঘটনায় ধর্ষক মাহফুজার রহমানকে প্রধান আসামি করে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের ওপর হামলা করায় আরও ৩ জনের নামে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পরিবার। এর আগে উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, একই এলাকার অসহায় পরিবারের মেয়ে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীটি। সে বড়খাতা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। তার বাবা মা অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের করে সংসার চালায়। অভিযুক্ত মাহফুজার রহমান প্রতিবেশী প্রভাবশালী ওমর আলীর ছোট ছেলে। দু’জনের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় মেয়েটির বাড়িতে ছেলেটির অবাধে যাতায়াত ছিলো।
গত এক বছর আগে থেকে মাহফুজার রহমান অসহায় মেয়েটিকে গোপনে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ফুসলাতে থাকতো। এমতাবস্থায় গত ১৫ জানুয়ারী মেয়েটির বাবা-মা প্রতিদিনের ন্যায় অন্যের বাড়িতে কাজ করতে যায়। সেদিন সকালে মেয়েটি বাড়িতে রান্নাঘরে রান্না করছিলো। মেয়েটি ছাড়া বাড়িতে আর কেউ না থাকার সুযোগে মাহফুজার রহমান মেয়েটিকে রান্নাঘর হতে তুলে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে পাশে থাকা গোয়াল ঘরে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর এ কথা কাউকে বললে মেয়েটিকে বিয়ে না করার ভয় দেখায় অভিযুক্ত মাহফুজার রহমান। ফলে মেয়েটি কাউকে কিছু জানায়নি। এভাবে অভিযুক্ত মাহফুজার রহমান প্রায় সময় মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে কাউকে দেখতে না পেলে মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করতে থাকে।
এর কয়েকমাস পর মেয়েটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখা গেলে পরিবারের সন্দেহ হয়। তারা মেয়েটিকে এর কারণ জানার জন্য চাপ দিলে সে সব কথা খুলে বলে। এরপর সোমবার (১৯ জুলাই) সোমবার মেয়েটিকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে দেখা যায় সে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরে মেয়েটির মা বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়।
এদিকে এ কথা জানতে পেরে অভিযুক্ত মাহফুজার রহমান, তার বড় ভাই, বাবা-মা মেয়েটির বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এসময় মেয়েটির বড় ভাই প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মারধর করাসহ বাড়িঘর ভেঙে অন্যত্র চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে যায়।
বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু বিচারের জন্য মেয়েটির পরিবার স্থানীয়দের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার দিলেও অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ আমলে নিচ্ছে না বলে জানান ওই ভুক্তভোগী পরিবার।
ধর্ষণের শিকার স্কুল ছাত্রীর সাথে কথা হলে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, বিয়ে করার লোভ দেখিয়ে মাহফুজার রহমান আমাকে অনেকবার ধর্ষণ করেছে। এখন আমাকে মাহফুজার রহমান বিয়ে না করলে পেটের বাচ্চার নিয়ে আত্মহত্যা করা ছাড়া তার আর কোন উপায় নেই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাহফুজার রহমানের সাথে দেখা করতে গেলে বাড়িতে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে কল করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলম বলেন, এবিষয়ে একটি মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের ধরার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।
পরিমল চন্দ্র বসুনিয়া/বার্তা বাজার/এসজে