আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই টাকা উত্তোলন

বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে হতদরিদ্রদের জমি আছে ঘর নাই আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই সে কাজের পুরো টাকা উত্তোলন করেছেন ঐ প্রকল্পের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা। এমনই অভিযোগ করেছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভুক্তোভোগি হতদরিদ্র কৃষক বৃদ্ধ আঃ হান্নান।

অভিযোগে তিনি বলেন, চলতি বছরের মে মাসে সরকারি সহায়তার ঘর বুঝে দেওয়ার কথা। কিন্ত বার বার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকের কাছে ধরনা দিয়েও আজ কাল করে সময় ক্ষেপন করেই চলেছেন।

ভুক্তোভোগি আঃ হান্নান বলেন, গত রোজার ঈদের এক সপ্তাহ পর তারা আমাকে ঘরটি সম্পন্ন করে বুঝিয়ে দিবে বলে আশ্বাস দিলেও সেই আশ্বাস পূরণ করেনি। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ঘর নির্মানের সময় ঘরের মেঝে পূরন করার জন্য যে বালু লাগে সেটাও আমার সাথে নিয়েছে। অথচ নিয়মানুযায়ি সরকার এ সমস্ত খরচ বহন করেছেন।

আঃ হান্নান জানান,বার বার অনুরোধ করা সত্বেও এর কোন সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ঘরের বিষয়ে জুন মাসের ২১ তারিখে একটি লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদন পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমি খানম তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন পিআ্ইও নিরঞ্জন চক্রবর্ত্তিকে। কিন্তু এ পর্যন্ত নিরঞ্জন চক্রবর্ত্তি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বলেই প্রতিয়মান হয়েছে।

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, আধা-পাকা ঘরটি শুধু মাত্র ইটের গাথুনি আর উপরে টিনের ছাউনি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজের মধ্যে মেঝে পূরণ হয়নি, দেওয়ালে পলেস্তরা, জানালা দরজাসহ ঘর নির্মাণের পর রং সম্পন্ন করা হয়নি। তার আগেই সমুদয় বিল উত্তোলন করে ফেলেছেন এই প্রকল্পের সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বর মোছাঃ ফেরদৌসি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

ওই গ্রামের স্কুল শিক্ষক লাল্টু জানান, দরিদ্র ব্যাক্তি আঃ হান্নান একজন বৃদ্ধ কৃষক। তার নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তার এই ঘর নিয়ে যারা অনিয়ম করেছে তাদের কাছে গ্রামের পক্ষ থেকে আমরা বারবার অনুরোধ করার পরও আজকাল করে ঘরটি সম্পন্ন না করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং এর সাথে জড়িত ব্যাক্তিরা ঘরের টাকা উত্তোলন করেছেন। ঘর সম্পন্ন না করে সরকারি টাকা উত্তোলন করার কথা জানতে পেরে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি আবেদন করলে তিনি তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে। তারপরও আজ অবধি ঘরটি আঃ হান্নানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। লাল্টু মাষ্টার জানান, পরবর্তিতে আমরা জেলা প্রশাসকের বরাবর আবারও আবেদন করব। তাতেও যদি কাজ না হয় তাহলে আরও উপর মহলে আমরা বিষয়টি অবহিত করব।

এদিকে জানতে চাওয়া হলে সাহারবটি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম ফারুক বলেন, ঘরটি বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আমরা অত্যান্ত আন্তরিক। এই ঘরটি যখন নির্মান কাজ প্রায় শেষের দিকে তখন দ্বিতীয় দফায় করোনার ভয়াবহতা শুরু হয়। সে সময় টিনের মিস্ত্রি পাওয়া গেলেও নির্মান শ্রমিকের সংকট হয়ে যায়। আবার জানালা দরজার মিস্ত্রি পাওয়াও কষ্ট সাধ্য হয়ে যাচ্ছিল। এরপরও আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে জানালা তৈরী করে রেখেছি এমন সময় আবারো কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ায় ইমারত শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। যে কারণে জানালা তৈরী করে রাখলেও ইমারত শ্রমিকের সংকটের কারণে জানালা লাগানো হয়নি। জানালা লাগানো হয়ে গেলেই আমরা বাকি যে প্লাস্টার মেঝে বা ঘর রং করার কাজ গুলো শেষ করে ফেলতে পারতাম।

তিনি বলেন, আমার ইউনিয়ন পরিষদের কখনই কাউকে হয়রানি আমি করিনা বরং নিজে খোঁজ নিয়ে কার খাবারের সংকট হলে সেটা আমি নিজে সমাধান করে থাকি। এই ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেনীর লোকবল লাগে যে কারণে তাদের সমন্নিত ভাবে পাওয়া যায়নি তাই দেরি হয়েছে।

পিআরও নিরঞ্জন চক্রবর্তী জানান, ঘরটি সম্পন্ন করার জন্য চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক এক সপ্তাহ সময় চাইলে তাকে সে সময় দেওয়া হয়। কিন্ত এখন পর্যন্ত ঘর সম্পন্ন কেন হয়নি তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে ঘর নির্মাণে করোনা মহামারির কারণে লোকবল সংকটে সময় ক্ষেপন হয় এভাবে ঘরটির নির্মান কাজ ৮০ ভাগ সম্পন্ন করা হয়। এমন সময় যদি ঘর নির্মানের বিল না করা হয় তাহলে টাকা ফেরত দিতে হতো। তাই ঘর নির্মানের অগ্রগতি দেখে বিলটি করা হয়েছে। পিআইও নিরঞ্জন চক্রবর্ত্তি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকের সাথে কথা বলে সাংবাদিকদের জানান, আমরা ঘরটি অবশ্যই ঐ কৃষক আঃ হান্নানকে আগামী ঈদুল আযহার পর এক সপ্তাহের ভিতরে বুঝিয়ে দেব।

উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মৌসুমি খানম সাংবাদিকদের জানান, সরকারের বরাদ্দকৃত ঘর নিয়ে একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছিল। আমি তৎখনাত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি এর পরও কেন ঘরটি সম্পন্ন হয়নি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘরটি যার তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে

মাসুদ রানা/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর