ঈদের পরপরই আসছে কঠোর লকডাউন। এবারের লকডাউনে অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেশের ১২০০ কোটি টাকার কুরবানির পশুর চামড়ার বাণিজ্য। ব্যবসায়ীদের মতে, ঈদের ৪৮ ঘণ্টা পর শুরু হচ্ছে কঠোর লকডাউন। যার ফলে চামড়া কিনে তারা পড়তে পারেন ক্ষতির মুখে।
তারা দাবি করছেন, এবারই প্রথম কুরবানির দু’দিনের মধ্যে গ্রামের কাঁচা চামড়া ঢাকা এনে বিক্রি করা যাবে না। অর্থাৎ কাঁচা চামড়ার পরিবহণ ঢাকামুখী আসতে পারবে না। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে ঢাকার চারপাশের জেলার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে দিনের মধ্যে ঢাকায় আসতে পারছেন না। এছাড়া খুচরা ও পাইকারি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার মিলনমেলায় কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। ফলে আসন্ন কুরবানি ঈদ ঘিরে চামড়া বাণিজ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবে সার্বিক দিক বিবেচনা করে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল সেলসহ তিনটি মনিটরিং কমিটি। পাশাপাশি লবণের পর্যাপ্ত মজুত ও মূল্যে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিসিককে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর লবণ পরিবহণে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়েও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী দুই সপ্তাহ কুরবানির পশুর চামড়া বাণিজ্যের মৌসুম। এ সময় চামড়া শিল্প খাতের প্রায় ৫০ ভাগ চামড়া সংগ্রহ হয়। কিন্তু এ বছর ঈদের দুদিনের মাথায় কঠোর লকডাউন শুরু হবে। এমন পরিস্থিতি উদ্ভূত হলেও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে পরিষ্কার করা হয়নি এ খাতের ক্রেতা ও বিক্রেতা লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে কি না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘কুরবানিকৃত প্রাণীর চামড়া সংরক্ষণ, পরিবহণ, ক্রয়-বিক্রয়’ সংক্রান্ত কন্ট্রোল সেলের প্রধান সমন্বয়ক অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মালেকা খায়রুন্নেছা বলেন, লকডাউনে চামড়ার ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চলাফেরা, বেচা-বিক্রি আওতামুক্ত থাকবে কি না-এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে করছি।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহিন আহমেদ মনে করছেন, ঈদের পর কঠোর লকডাউন নিয়ে মাঠপর্যায়ে পশুর চামড়ার পাইকারি ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তায় আছেন। বিষয়টি এখন ধোঁয়াশায়। ব্যবসায়ীরা ভাবছেন, লকডাউন শুরু হলে পশুর চামড়া বেচাকেনা কীভাবে হবে। চামড়া ব্যবসায়ীরা লকডাউনের বাইরে থাকবেন কি না-এটি সরকারিভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে এ বছর ৩০ শতাংশ কুরবানি কম হবে-এমনটি ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি কেমন হবে-এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আজ কিনে আজই বিক্রি করতে হবে-এমন চিন্তা করলে তাদের এ ব্যবসায় না নামলেই ভালো হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে এ বছর কুরবানির পশুর বাণিজ্য কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, কুরবানির ঈদ ঘিরে এক হাজার কোটি থেকে ১২ শ কোটি টাকার চামড়ার বাণিজ্য হয়। এরই মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলো চামড়া কিনে ট্যানারির মালিকদের ঋণ খাতে বরাদ্দ দিয়েছে ৫৮৩ কোটি টাকা। পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকেও কাঁচা চামড়ার প্রতি বর্গফুটের মূল্য ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে লবণযুক্ত গরুর কাঁচা চামড়ার মূল্য প্রতি বর্গফুট ঢাকায় ৪০-৪৫ টাকা, ঢাকার বাইরে ৩৩-৩৭ টাকা, খাসির কাঁচা চামড়া সারা দেশে ১৫-১৭ টাকা, বকরির কাঁচা চামড়া সারা দেশে ১২-১৪ টাকা।
প্রসঙ্গত, আগের বারের চেয়ে এই বছর গরুর চামড়ার মূল্য প্রতি বর্গফুটে বাড়ানো হয়েছে ৫ টাকা। খাসি ও বকরির চামড়াও ২ টাকা করে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বার্তা বাজার/এসজে