আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দিন বদল হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। এক সময় বাংলাদেশের নাম লেখা হতো অন্যতম দরিদ্র দেশ হিসেবে। আজ সেই সুযোগ আর নেই। বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ, সামনে ডেলটা প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে থাকবে উন্নত জাতি হিসেবে।
সোমবার (১৯ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় কৃষিমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বন্যা ও করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ জনগণের মাঝে নগদ অর্থের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে অনলাইনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড ইতিহাসের নির্মম হত্যাকান্ড। এর আগে রাজনৈতিক হত্যাকান্ডে পরিবারসহ কাউকে হত্যা করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি, যারা পরাজয়কে মেনে নিতে পারেনি, তার সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক চক্র, যারা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সহায়তা করেছে, তারাই সম্মিলিতভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও যুদ্ধাপরাধীরা বাংলাদেশকে, এ দেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শ ও চেতনাকে, বাঙালির আত্মাকে হত্যা করতে চেয়েছিল ষড়যন্ত্রকারীরা। সেখানেই থেমে থাকেনি তারা, এখনও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনাকে বার বার হত্যার চেষ্টা করছে ষড়যন্ত্রকারীরা।
তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। এটাই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ। আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত দল এবং সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব রয়েছে। যারা ১৫ ও ২১ আগস্ট জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কোনো ক্ষমা নয়। আমরা একটি সঠিক রাজনৈতিক দল চাই যারা সঠিকভাবে রাজনীতি করবে, সরকারের গঠণমূলক সমালোচনা করবে এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে ঈদের দিনে মানুষ যেন না খেয়ে থাকে। ঈদের আনন্দ যেন আমরা সবাই মিলে ভাগ করে নিতে পারি। ত্যাগের মাধ্যমে যেন আমরা এগিয়ে যেতে পারি। কৃষিকে দারিদ্র্যমোচনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশে এখনও বেশির ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া কৃষকদের বেশিরভাগ হলো প্রান্তিক ও ভূমিহীন। স্বল্প জমিতে ও বাড়ির আঙিনায় গরু-মুরগি পালন, ফলমূল চাষ ও শাকসবজির বাগান স্থাপনসহ বিভিন্ন আধুনিক কৃষিকাজ বৃদ্ধি পেলেই গ্রামীণ মানুষের দারিদ্র্য আরও হ্রাস পাবে। তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন যাবত মধুপুর-ধনবাড়ী জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এলাকার যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছি। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন হয়েছে। মধুপুর-ধনবাড়ীর জনগণের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।
হাসান সিকদার/বার্তা বাজার/এসজে