জুলাই মাসের প্রথম ১৮ দিনেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৮৩৫ জন

মহামারি করোনার উর্ধ্বমুখী সংক্রমন নিয়ে যখন সারাদেশ নাজেহাম এমন সপময় বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। দেশব্যাপী চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩৫ জন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই ঢাকায় বসবাস করে।

শনিবার (১৭ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে রোববার (১৮ জুলাই) সকাল ৮টা নাগাদ এই ২৪ ঘন্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮ জন। সাধাণভাবে বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবরকে ধরা হয় ডেঙ্গুর মৌসুম হিসেবে। তবে জুন থেকে সেপ্টেম্বর চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। কয়েক দিনের থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টি এডিস মশার বংশবিস্তারে প্রভাব ফেলছে। করোনা আর ডেঙ্গুর উপসর্গ কাছাকাছি হওয়ায় জ্বর হলে বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২০৭ জন। এর মধ্যে গতকাল ৩২৬ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এদের ৩২২ জনই ভর্তি ছিল রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে। বাকি চারজনের মধ্যে দুজন যশোরে এবং একজন করে গাজীপুর ও ময়মনসিংহের হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

ডেঙ্গু সন্দেহে মারা যাওয়া দুজন রোগীর তথ্য পর্যালোচনার জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। তবে চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যু নিশ্চিত করেনি আইইডিসিআর।

গত জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে দৈনিক ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিল ১০০ জন। জুন মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় ২৭২ জন। জুলাই মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বেশি বাড়তে শুরু করেছে।

২০১৯ সালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এর আগের সব বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছিল। প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩০০ মানুষ প্রাণ হারান। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৭৯। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ওই বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল জানান, করোনার মধ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণও যদি বাড়তে থাকে তাহলে রোগী ব্যবস্থাপনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। মশকনিধনে দুই সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। সাধারণ মানুষের সচেতনতাও জরুরি।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর