সরকারি হাসপাতালে মৃত শিশুর লাশ আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ!

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত শিশুর লাশ আটকে রেখে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রোগীর পরবিারের সাথে হাসপাতালের মিডওয়াইফ শরিফার টাকা নিয়ে বাকবিতন্ডা সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে।

এ বিষয়ে গত বুধবার আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আলোচনা হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মৃত শিশুর পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) পূর্ব বতিহালা গ্রামের আজিজুল হক এর গর্ভবতী স্ত্রী রুনা আক্তারকে নিয়ে সন্তান প্রসবের জন্য তার পরিবারের লোকজন ধোবাউড়া হাসপাতালে নিয়ে আসেন । তার সার্বিক চিকিৎসা এবং প্রসবের দায়িত্বে কাজ করেন হাসপাতালের মিডওয়াইফ শরিফা খাতুন।

কিন্তু মৃত শিশুর জন্ম হয়। পরে পরিবারের লোকজন শিশুর লাশ নিতে চাইলে মিডওয়াইফ শরিফা ১ হাজার টাকা দাবি করে। একদিকে শিশুর মৃত্যুতে পরিবারের লোকজন শোকে ভারাক্রান্ত অপরদিকে টাকা না থাকায় লাশ নিতে পারছেনা।

এ নিয়ে শুরু হয় বাকবিতন্ডা। অবশেষে ৫ শত টাকা দিয়ে শিশুর লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরে রুনা আক্তারের পরিবারের লোকজন।

মৃত শিশুর পরিবারের এক সদস্য প্রত্যক্ষদর্শী ফজর আলী বলেন, গরীব মানুষ তাই প্রথমে ২ শত টাকা দেওয়া হয়েছিল কিন্তু নেননি,পরে ৫ শত টাকা দিয়ে লাশ আনতে হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন মিডওয়াইফ শরিফা অনেকক্ষণ লাশ আটকে রেখে আমাদের হয়রানি করেছে।

ঘটনাটি গোপনে ভিডিও ধারন করেছে কেউ একজন।ইতোমধ্যে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা। অনেকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। এদিকে এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভিকটিমের বাড়িতে গিয়ে ধরনা দিচ্ছেন মিডওয়াইফ শরিফার স্বামী আলী হোসেন।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হাসান শাহীন জানান,মিডওয়াইফ শরিফাকে ডেকে এনে সর্তক করে দিয়েছেন।

ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন ডাঃ নজরুল ইসলাম জানান,লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আনিসুর রহমান/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর