শশুর বাড়িতে ডেকে নিয়ে অপমান করায় শ্যালককে হত্যা
যশোরের চৌগাছা উপজেলার লস্করপুর শ্মশান মাঠে পাটক্ষেত থেকে মুখে স্কসস্টেপ দ্বারা মোড়ানো ১৮ বছর বয়সী অজ্ঞাত যুবকের একটি মৃত দেহ পেয়ে উদ্ধার করে চৌগাছা থানা পুলিশ। পরবর্তীতে মৃতের আত্মীয়-স্বজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ও ছবি দেখে মৃতদেহ সনাক্ত করে।
উদ্ধারকৃত মরদেহটি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাজিপোতা গ্রামের মোঃ মহিউদ্দিনের ছেলে এহতেশাম মাহমুদ রাতুলের(১৮)। সে মহেশপুর উপজেলার সামবাজার এম.পি.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র।
গত ( ১১জুলাই )বেলা ২.৩০মিনিটের সময় বাড়ী থেকে বাহির হয়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৭ টার সময় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও এরপর হতে সে নিখোঁজ হয়।
এই ঘটনার বিষয়ে ভিকটিমের পিতা মহিউদ্দীন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলাটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হওয়ায় পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, বিপিএম (বার), পিপিএম মহোদয় মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখার উপর দেন। অফিসার ইনচার্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার হাওলা মতে এসআই(নিঃ)/ মোঃ শামীম হোসেন মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করেন।
এরপর তদন্ত ধারাবাহিকতায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ জনাব রূপন কুমার সরকার, পিপিএম এর নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি’র এসআই(নিঃ)/ মোঃ শামীম হোসেন, সংগীয় এসআই (নিঃ) মোঃ মফিজুল ইসলাম, পিপিএম ও এএসআই (নিঃ) রঞ্জন সরকার, সঙ্গীয় ফোর্সসহ একটি চৌকস টিম গোপন সূত্রের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৬ জুলাই) তারিখ দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ চট্টগ্রামের সিএমপি বন্দর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামী ও মূল হত্যাকারী ভিকটিমের ভগ্নিপতি(দুলাভাই), শিশির আহম্মেদকে গ্রেফতার করেন।
আসামিরর স্বীকারোক্তি মতে ওই দিনই রাত সাড়ে ৯টার সময় চৌগাছা উপজেলার লস্করপুর শ্মশান মাঠে মরেদহ উদ্ধারের ঘটনাস্থল থেকে দূরে একটি পাটক্ষেত থেকে ভিকটিমের পরনের বস্ত্র ও হত্যা কাজে ব্যবহৃত স্কচটেপ ও হ্যান্ড গ্লভস্ এবং একই তারিখ ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর থানাধীন কাশিপুরের আসামির বসতবাড়ী হতে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
যশোর জেলা পুলিশ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কাশিপুর গ্রামের মোঃহায়দার আলী মন্ডলের ছেলে আসামি শিশির আহমেদ(২১)। আসামি মামলার ভিকটিমের আপন ভগ্নিপতি(দুলাভাই)।
আসামির শ্বশুর একদিন বাড়ীতে ডেকে এনে অপমান অপদস্থ করলে রাগে ক্ষোভে সেই থেকে তার একমাত্র ছেলে (ভিকটিম)কে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করতে থাকে।
পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ভিকটিমকে তার ভগ্নিপতি আসামি শিশির আহাম্মেদ মোবাইল ফোনে (ভিকটিমের বোনের ফোন দ্বারা) ডেকে নিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থলে গিয়ে গাঁজা সেবন ও কোমল পানীয় মজো এর মধ্যে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে ভিকটিমকে খাওয়াইয়া অজ্ঞান করে।
এরপর আসামি শিশির আহাম্মেদ ভিকটিমের নাক মুখে স্কচ ট্যাপ দ্বারা মোড়ায়ে ভিকটিমের শ্বাসরোধ করে।
ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে ওই ঘটনাস্থলেই লাশ গুম করার জন্য ফেলে রাখে ও ভিকটিমের গায়ের কাঁপড় খুলে ঘটনাস্থলের পাশে আরেকটি পাট ক্ষেতে ফেলে রাখে এবং ভিকটিমের মোবাইল টির সিম খুলে আসামিরর বাড়ির একটি কক্ষে ইটের নীচে পুতে রাখে।
হত্যার কাজে ব্যবহৃত ভিকটিমের মোবাইল ফোন, ভিকটিমের পরিহিত বস্ত্র,আসামীর মোবাইল ফোন,হত্যার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
এ্যান্টনি দাস(অপু)/বার্তা বাজার/টি