এক সপ্তাহে ও উদ্ধার হয়নি মিশুক: উল্টো প্রাণনাশের হুমকি!
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার এক হতদরিদ্র ব্যক্তির ঋণ করে কেনা মিশুক রিকশা চুরি হয়ে যাওয়ার পেরিয়ে গেছে এক সপ্তাহ।এনিয়ে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হলেও পুলিশ এখনো মিশুক উদ্ধার ও চোরকে ধরতে পারেনি।
উল্টো চোর ধরার জন্য ওই দরিদ্র আলম মিয়া নামের গ্রাম্য এক ফকিরের নিকট তথ্য জানতে গেলে চোর সেই ফকিরকেই প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করছে বলে জানা যায়।চুরির কোনো তথ্য প্রকাশ না করার জন্য ফকিরকে মোবাইলে হুমকি দেয় সেই চোর।
স্থানীয়সুত্র জানায়,সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পশ্চিম কল্যাণ গ্রামের হতদরিদ্র আলম মিয়া কুড়িগ্রামের শাপলা মোড়ের একটি দোকান থেকে ৮৫ হাজার টাকা কিস্তিতে একটি মিশুক রিকশা (ব্যাটারি চালিত রিক্সা) ক্রয় করেন।এখন পর্যন্ত মিশুক মালিক তার কাছে ঋনের কিস্তির ২৮ হাজার টাকা পান।
পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস মিশুক রিক্সা চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে পঙ্গু বাবার চিকিৎসার ব্যয়,সন্তানের লেখাপড়া,পারিবারিক ভরণপোষণ খরচ ও মিশুকের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয় আলম মিয়াকে।কিন্তু গত ৯ জুলাই তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন চুরি হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে সদরের খলিলগঞ্জ এলাকায় ফুলবাবু নামের এক ফকিরের কাছে চোর ধরতে শনাক্তের জন্য যান তিনি।ফকির আশ্বাস প্রদান করলে গত বৃহঃবার(১৫ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে চোর ফকিরকে মোবাইল করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এরপর ফকির ফুলবাবু জীবনের ভয়ে মিশুক উদ্ধারে অপারগতা প্রকাশ করেন।শেষমেস তিনি সদর থানায় হুমকি দাতার মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এক সপ্তাহ পেরিয়ে এখনও চোর ধরতে পারেনি।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ খাঁন মো. শাহরিয়ার বলেন,’মিশুক রিকশাটি উদ্ধারের ব্যাপারে মোবাইল ফোনের বিষয়টি প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। আশা করা যায় দ্রুত চোর শনাক্তসহ দরিদ্র আলমের মিশুক রিকশাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হবো।’
সুজন মোহন্ত/বার্তা বাজার/টি