কঠোর বিধিনিষেধ শিথিলের পর গণপরিবহন চলাচল শুরুর একদিনের মাথায় শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে একাংশের শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বরিশালের ২ বাস টার্মিনাল থেকে সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে পৃথক বাস মালিক সমিতি।
শ্রমিকরা জানিয়েছে, বরিশাল জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের দুটি কমিটি নতুনভাবে গঠিত হয়। এরপর থেকে ২ গ্রুপ শ্রমিক নেতাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় ছোটখাটো মারামারি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটে আসছিলো। বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টার্মিনাল ভবনের নিচতলায় কাউন্টারের সামনে সুলতান মাহামুদ ও সহিদুল ইসলাম টিটু নেতৃত্বাধীন কমিটির শ্রমিকদের সাথে পরিমল চন্দ্র দাস ও শাহারিয়ার বাবু এর নেতৃত্বাধীন কমিটির শ্রমিকদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পরিমল ও বাবু গ্রুপের বেশ কয়েকজন আহত হয়।
এরপরপরই গোটা বাস টার্মিনাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে এবং বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ৪ ঘণ্টার জন্য। এরপর পরিমল ও বাবু নেতৃত্বাধীন শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে পুলিশ সুলতান মাহামুদসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতাদের উপর হামলার অভিযোগে। পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুলতান মাহামুদ সহ হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে চার ঘণ্টা পর বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করায় আজ সকাল থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ ও রুপাতলী টার্মিনাল থেকে সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।
রুপাতলী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন বলেন, সুলতান মাহামুদ তার লোকজন নিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করেছে বৃহস্পতিবার। বাস চলাচল বন্ধ করে দিলে পুলিশের আশ্বাসে বাস চলাচল স্বাভাবিক করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারী সুলতান মাহামুদ সহ সকলকে গ্রেপ্তারে আলটিমেটাম দেয়া হয়। তবে তারা গ্রেপ্তার না হওয়ায় রুপাতলী থেকে ১৭ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি বিষয়টি।
বার্তাবাজার/পি