আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সাথে একের পর এক সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছে বিভিন্ন মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠান। গত কয়েকদিনে তারা ক্ষুদে বার্তায় জানিয়ে দিয়েছে, ইভ্যালির দেওয়া ভাউচারে আর পন্য সরবরাহ না করার কথা। কারণ তারা ইভ্যালির কাছ থেকে পণ্যের দাম পাচ্ছে না।
এমন তথ্য গ্রাহকদের জানিয়েছে রঙ বাংলাদেশের পর পোশাকের ব্র্যান্ড জেন্টল পার্ক, ট্রেন্ডস, আর্টিসানসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।
এদিকে মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বকেয়া আদায়ের জন্য ভিড় জমাচ্ছেন ইভ্যালির ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে। কিন্তু সেটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। হটলাইন নাম্বারে কল করেও কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন।
আবার ইভ্যালিসহ দেশের আলোচিত ১৪ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। তাদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করে দিয়েছে ইতোমধ্যে। এর মধ্যে ধামাকা নামের একটি ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। পর্যায়ক্রমে অন্যগুলোর বিষয়েও একধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর ধানম্নডির সোবহানবাগ এলাকায় অবস্থিত ইভ্যালির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেটি বন্ধ। দু’টি নোটিশ ঝুললেও কোনোটিতে নেই কারও স্বাক্ষর।
সেখানে বলা আছে, ইভ্যালির সশরীর গ্রাহকসেবা প্রদান বন্ধ থাকবে। অনলাইন গ্রাহকসেবা ও পণ্য সরবরাহ চালু থাকবে।
কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকারী একজন নিরাপত্তা প্রহরী বলেন, সরকার বিধিনিষেধ শিথিল করলেও ইভ্যালির কোনো কর্মকর্তা অফিসে আসেননি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক গ্রাহক টাকা ও পণ্য না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে এসে ভিড় করছেন। কিন্তু অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে তাঁদের ফিরতে হচ্ছে নিরাশ হয়ে।
তাঁদেরই একজন মো. নাজমুল হুদা। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের বিভিন্ন সময়ে এসি, মোটরসাইকেল, বৈদ্যুতিক পাখাসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার পণ্যের ক্রয়াদেশ দিয়েছিলেন। পণ্য সরবরাহের সময় পেরিয়ে গেছে, কিন্তু এখনো একটি পণ্যও পাননি। ৪৫ কার্যদিবস পার হওয়ার পর ইভ্যালির কার্যালয়ে ষষ্ঠবারের মতো এসেছেন নাজমুল হুদা। তাঁর অভিযোগ, এরই মধ্যে ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে কয়েক হাজার টাকা খরচ করেছেন। কোনো সমাধান পাচ্ছেন না।
ইভ্যালি কার্যালয়ে আসা গ্রাহকদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তাঁরা হটলাইনে ফোন করেও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। এমন অভিযোগের পর ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ারে (০৯৬৩৮১১১৬৬৬) ফোন করেন এই প্রতিবেদক। ৬ মিনিট অপেক্ষার পরও কাস্টমার কেয়ারের কারও কাছে কলটি দেওয়া হয়নি।
জানতে চাইলে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল গত রাতে বলেন, ‘আমাদের কার্যালয় বন্ধ নেই। কলসেন্টার খোলা সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। পণ্য সরবরাহব্যবস্থাও চালু আছে। তবে করোনার কারণে কর্মীদের একটা অংশ বাসা থেকে কাজ করছেন।’
কল সেন্টারে ফোন করেও গ্রাহকরা কোনো সাড়া পাচ্ছে না বলে অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি জানান, কেউ হয়তো একটা নির্দিষ্ট সময়ে কাউকে পাননি। আর এটাকেই সাধারণ বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা অনুচিত।
বার্তা বাজার/এসজে