সমাজসেবা অফিস ও মেম্বারের টানাটানিতে মিলেনি ভাতা কার্ড

শ্রবন প্রতিবন্ধী আবুল কালাম। জাতীয় পরিচয় পত্রে বয়স ৫৮ বছর। জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী।পিতা মৃত ওয়াজেদ আলী হাওলাদার। পেশায় একজন দিনমজুর। জীবন থেকে ৫৮টি বছর চলে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন ভাতা ভোগ করতে পারেননি।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড। গ্রামের নাম পূর্ব সেনের টিকিকাটা। এ গ্রামেই ছোট্ট একটি খুপরি ঘরে স্ত্রী – সন্তান নিয়ে থাকেন তিনি। ২ ছেলের মধ্যে দিনমজুর এক ছেলের আলাদা সংসার। আরেক ছেলে মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত। একমাত্র মেয়েকে এলাকাবাসীর সাহায্য সহযোগিতায় কোন রকম বিবাহ দিতে পেরেছেন। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে অনেকটা ক্লান্ত।

স্ত্রী সেলিনা বেগম জানান, আমার স্বামী শ্রবন প্রতিবন্ধী হওয়ায় কোথাও দিনমজুরের কাজ করতে গেলে আমাকেও সাথে যেতে হয়। ইশারা ইঙ্গিতে কাজ বুঝিয়ে করাতে হয় তাকে। প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম খান জানান, কালাম সুস্থ্য লোক। সে প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে পারে না।

তবে সমাজসেবা অধিদফতর থেকে প্রদত্ত প্রতিবন্ধী পরিচয় পত্রে আবুল কালামের প্রতিবন্ধীর ধরণ লেখা আছে – শ্রবন প্রতিবন্ধী, মাঝারি। আইডি নং- ৭৯১৫৮৮৬২৩৮৬১৮-০৭।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান সিফাত বলেন, পরবর্তী সমন্বয় সভায় বিষয়টি আলোচনা সাপেক্ষে ভুক্তভোগীর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সুপারিশ করা হবে।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তরিকুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দ আসলে কালাম নামে ওই শ্রবন প্রতিবন্ধীকে ভাতাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর